সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার ও ধলবাড়ীয়া ক্লাস্টার অফিসার রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে তাকে সাতক্ষীরা থেকে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে বদলি করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ধলবাড়ীয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান ক্লাস্টার অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: রবিউল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরে তাদের ভয় ভীতি দেখিয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করে আসছিল। ফলে শিক্ষকরা তার উপর দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিল। শিক্ষকদের প্রতি অত্যাচারের কারণে তিনি ১৩বছরের চাকরি জীবনে ৮বার শাস্তি মূলক বদলি হয়েছেন।
দুর্নীতির দায়ে তিনি শ্যামনগর হতে এমপির ডিও লেটারে বদলি হয়ে আশাশুনি আসেন। আবার সেখান থেকে একই অপরাধে এমপির ডিও লেটারে মোড়লগঞ্জ বদলি করা হয়। মোড়লগঞ্জ থেকে লোহাগড়ায় আসেন। লোহাগড়া থেকে তিনি ঠিক একই অপরাধের কারণে এমপির ডিও লেটারে সাতক্ষীরায় আসেন। সাতক্ষীরায় দ্বায়িত্ব পালন কালে মিশন ক্লাস্টারের দায়িত্বরত অবস্থায় যেসকল আর্থিক কাজ প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে সম্পন্ন হওয়ার কথা যেমন ক্ষুদ্র মেরামত, স্লিপ প্লেইং এক্সোসরিজ ক্রয়, ইমারজেন্সি ইন এডুকেশন ইত্যাদি আর্থিক বিষয়ে ক্ষমতা দেখিয়ে একাই ক্রয় করেন। যা অত্যন্ত নিম্নমানের। এখান থেকে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ বিষয়ে শিক্ষকরা কথা বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধেল মামলাসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকিও দেন। তিনি সবসময় বলেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে কিন্তু রবিউল ধরলে ছাড়ে না। তার কারণে নিরীহ শিক্ষকরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়লেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছিল না। তিনি প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ের স্লিপ অনুদান থেকে ১০হাজার টাকা এবং ক্ষুদ্র মেরামত থেকে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা আদায় করে থাকেন। যা সম্পূর্ণ অবৈধ অনৈতিক। এমন একজন অফিসার দিয়ে আমাদের শোষণ করানো হয়েছে বলে একাধিক শিক্ষকরা জানিয়েছেন। তারমধ্যে ভুল শুধরে দেয়ার কোন মানসিকতা নেই। হুমকি দিয়ে ভয় দেখিয়ে ত্রুটির প্রেক্ষিতে অর্থ আদায় করা তার লক্ষ্য। তার অনিয়মের কারণে মিশন ক্লাস্টার হতে ধলবাড়িয়া ক্লাস্টার পরিবর্তন করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে ইতোপূর্বে বরখাস্ত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে।
জানা গেছে, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি তার চাকরি জীবনের শুরু থেকে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে অসদাচরণ করে আসছিলেন। উদ্বোধন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় তার প্রধান কাজ। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নিজেকে সবসময় বড় মনে করেন। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট শিক্ষকরা দীর্ঘ দিন ধরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো: রবিউল ইসলামকে অন্য জেলায় বদলিসহ তার দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে কঠোর শাস্তির দাবি করে আসছিলেন। তাদের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপেক্ষিতে অবশেষে ৪জানুয়ারি, রবিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ২) স্বাক্ষরিত এক আদেশে আগামী ৭জানুয়ারি দায়িত্বভার হস্তান্তর করে ৮জানুয়ারি নতুন কর্মস্থল বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে যোগদান করার নির্দেশ দেন। এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গনি এ প্রতিনিধিকে জানান-তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।