1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ-জনগণের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির মানসম্মত শিক্ষা দিতে আমরা ব্যর্থ: শিক্ষামন্ত্রী আড়ালে থেকেও যুদ্ধে সক্রিয় মোজতবা খামেনি প্রণয় ভার্মার সঙ্গে আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সাক্ষাৎ, তিস্তা চুক্তি ও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর দাবি কুশিয়ারা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি জামালপুরে ১৬ বছর বয়সী কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিন যুবকের মৃত্যুদন্ড মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ইচ্ছার প্রতিফলন ঈশ্বরদীর আবহাওয়া অফিস কাগজে-কলমে আধুনিক, বাস্তবে অচল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার হেরোইন ব্যবসায়ী মুকুলকে গ্রেফতার করেছে পাটগ্রাম থানা পুলিশ। অবৈধ বালু উত্তোলন ঠেকাতে খোলপেটুয়া নদীতে রাতে অভিযান

নীলফামারীতে দুই সন্তানের জননী প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসে পুলিশ সদস্য আটক

কে এম শাকীর
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে
নীলফামারীতে দুই সন্তানের জননী এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে এসে আটক হয়েছেন আতিকুর রহমান নামে এক পুলিশ সদস্য। তিনি নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। শুক্রবার সারাদিন আটক রেখে রাত ১১টায় মুচলেকা দিয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে জেলার ডোমার সদর ইউনিয়নের হুজুর পাড়ার গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ও দুই সন্তানের জননীর সাথে দেখা করতে এসে ওই মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গিয়ে আটক হন পুলিশ সদস্য আতিকুর। সে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার খলিলগঞ্জ হরিরামপুর এলাকার হোসেন আলীর ছেলে আতিকুর। সে নীলফামারী পুলিশ লাইন্সে কর্মরত। এর পূর্বে সে ডোমার থানায় কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকুরী করতেন।
জানা গেছে, ডোমার থানায় চাকুরী করা অবস্থায় মেয়েটির শশুড় বাড়ির লোকের সাথে সম্পর্ক তৈরী হয় আতিকুরের। এক পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর হলে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক তৈরী করে। সে সুবাধে প্রায় সময় স্ত্রী সন্তান নিয়ে বাড়িতে আসায় প্রবাসীর স্ত্রীর সাথেও যোগাযোগ শুরু হতে থাকে। নিজেদের সাংসারিক সমস্যা নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও পুলিশ সদস্য আতিকুরের মাঝে আলাপ হতো। ৪মাস পুর্বে পারিবারিক সমস্যা নিয়ে কাউকে না জানিয়ে নীলফামারী কোর্টে পরামর্শের জন্য আতিকের সাথে যান প্রবাসীর স্ত্রী। বিষয়টি মেয়েটির শশুড় বাড়িতে জানাজানি হলে শশুড় বাড়িতে অশান্তি সৃষ্টি হয়। এরপর মেয়েটি দীর্ঘদিন থেকে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন।
মেয়ের স্বজনেরা জানান, ‘শুক্রবার জুমার নামাজের পর মেয়েটিকে সমঝোতার মাধ্যমে তার শশুড় বাড়িতে রেখে আসার জন্য প্রস্তুতি চলছিলো। এমন সময় বাড়িতে এসে হাজির হয় আতিকুর। পরিবারের ভাষ্যমতে আতিকুর তাদের বলেছিলো মেয়েটিকে তার শশুড় বাড়িতে না পাঠিয়ে আতিকুরের সাথে বিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে আতিকুরকে মেয়ের পরিবারের লোকজন ঘড়ে আটকে রাখে। এর আগেও মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করা নিয়ে একাধীকবার আতিকুরকে নিশেধ করা হয়েছিলো।’
প্রবাসীর স্ত্রী জানান, “শশুড়বাড়ির লোকজনের সঙ্গে আতিকুরের যোগাযোগ থাকায় তাদের বাড়িতে তার যাতায়াত ছিল। সেই সুবাধে আমাদের দুজনের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। আমি আমার সাংসারিক নানা বিষয় আতিকুরকে জানাতাম। সাংসারিক সমস্যা হওয়ায় আইনি পরামর্শ নিতে আতিকুরের সঙ্গে নীলফামারী কোর্টে গেলে ফেরার পর শশুড়বাড়ির লোকজন আমাদের সন্দেহ করে এবং আমার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। এসব সহ্য করতে না পেরে আমি গত ৪/৫ মাস ধরে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছি। আতিকুরের কারণে যদি আমার সংসার না টিকে, তাহলে এর দায়ভার আতিকুরকেই নিতে হবে।”
মেয়েটির শশুড় জানান, ‘পুলিশ সদস্য আতিকুর তাদের সাথে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক গড়ে তুলে বাড়িতে যাতায়াত করতেন। কাউকে না জানিয়ে ৪ মাস আগে আতিকের সাথে মেয়েটি নীলফামারী গিয়েছিল। নীলফামারী থেকে ফেরার সময় সোনারায় বাজারে তাদের আটক করা হয়। কারণ জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যায়। এ বিষয়ে মেয়ের পরিবারকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো যোগাযোগ করেনি। এ ঘটনার পর আতিকুরের সাথে কোনো যোগাযোগ করিনা, বরং সে নিজে থেকেই আমাদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য বাড়িতে প্রায় সময়ই আসে।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আতিকুর রহমান বলেন, ‘মেয়ের শশুড়-শাশুড়ির সাথে ধর্ম বাবা-মায়ের সম্পর্ক থাকার কারণে আমি তাদের খোঁজ নিতে যেতাম। মেয়েটির স্বামীর সাথে সম্পর্ক ভালো না, তাই আমি মেয়ের বাড়িতে গিয়ে বলেছিলাম যেন তাকে ওই বাড়িতে না পাঠিয়ে আমার সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় কথাকাটাকাটি হলে তারা আমাকে আটকে রাখে।’
ডোমার সদর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘আটক পুলিশ সদস্য আতিকুর বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছে এসেছিলো। পরিবারের লোকজন তাকে রাত পর্যন্ত আটকে রেখে মুচলেকা নিয়ে পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেছে।’
নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আরআই) মো. বদিউজ্জামান জানান, ‘আতিকুর গতকাল রোল কলের সময় অনুপস্থিত ছিলেন। আজকে সকালে সে যোগদান করেছে। তার বিষয়টি আমরা শুনেছি গতকাল রাতে ডোমার থানা পুলিশ তাকে আটক অবস্থায় মেয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে।# সাথে ছবি আছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com