পটুয়াখালী জেলার বাউফলে তিন প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল। মাদ্রাসা সুপার বলেন,
“তকদির খারাপ, তাই সবাই ফেল করছে। এমন রেজাল্ট হওয়ার কথা নয়।”
সারাদেশে গতকাল এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ১২ ই মে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় পটুয়াখালী জেলার বাউফলের তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া ২৯ জন পরীক্ষার্থী সবাই ফেল করেছে। গতকালের প্রকাশিত হওয়া ফলাফলে এমন চিত্রই দেখা যায়। কোনো শিক্ষার্থীই পাস না করা তিনটি মাদ্রাসার মধ্যে একটি হলো উপজেলার উত্তর দাসপাড়া দাখিল মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু তাদের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। অথচ তাদের পড়ানোর জন্য শিক্ষক ছিলেন ১১ জন। সব শিক্ষার্থী ফেল করার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপার (ভারপ্রাপ্ত) মাসুম বিল্লাহ বলেন,
“তকদির খারাপ, তাই সবাই ফেল করছে। এমন রেজাল্ট হওয়ার কথা নয়।”
তবে এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ,
মাদ্রাসায় পড়াশোনার ভালো পরিবেশ নেই। ভারপ্রাপ্ত সুপার পদ নিয়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। তাদের মধ্যে হাতাহাতি, এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে মাদ্রাসায় শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তা ছাড়া শিক্ষকেরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেন না। আসলেও ঠিকমতো পাঠদান না করিয়ে অফিস কক্ষে বসে থাকেন। যে কারণে গত কয়েক বছর ধরেই ফলাফল ধারাবাহিক খারাপ হচ্ছে। ফলস্বরূপ এবার কেউই পাস করেনি।
কেউই পাস না করা অপর মাদ্রাসা দুটি হলো পশ্চিম কালিশুরী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা ও উত্তর কেশবপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা।
খবর নিয়ে জানা যায়,
পশ্চিম কালিশুরী বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩ জন শিক্ষার্থী। আর উত্তর কেশবপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে অংশ নেয় একজন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, “বিগত বছর পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষকেরা নকল দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাস করাতেন। এ বছর ইউএনও কঠোরভাবে পরীক্ষা নিয়েছেন, নকলবিহীন পরীক্ষা হয়েছে। তাই যারা পড়াশোনা করেছে তারাই পাস করেছে। বাকিরা সব ফেল।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন,
“উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে শোকজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিও বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা অধিদপ্তর বরাবর লিখিত আবেদন করা হবে।”