1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চাঁদপুরে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ, তদন্তে উঠে এলো হ/ত্যা/র আলামত পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ঝালকাঠির নলছিটিতে কিস্তির ঋণের চাপ সহ্য করতে না পেরে যুবকের আত্মহত্যা চাঁদপুরে কোস্ট গার্ডের অভিযানে প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকার জাটকা জব্দ টেকনাফে র‍্যাবের ওপর হামলা, আহত ৯ ‎কুমারখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহের ভালুকায় ২ নং মেদুয়ারী ইউনিয়নে সরকারি চাল বরাদ্দের অনিয়ম আসন্ন বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এডভোকেট মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন! জামালপুরে স্বামীকে গাছে বেঁধে স্ত্রীকে ধ*র্ষণ, ৩ জনের মৃ*ত্যুদণ্ড! ফরিদপুরে ৪ হাজার ই*য়া*বাসহ দুই মা-দক কার*বারি গ্রে*ফ*তার!

প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম-২০২৩ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ এবং আমাদের করণীয়

মাহফুজুর রহমান
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৭৬৪ বার পড়া হয়েছে
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখাটির নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ৩০ মে ২০২২ এই রুপরেখাটিকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে প্রণয়ন করা হয় এই রূপরেখা। জীবন ও বাস্তবমুখী শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে এই কারিকুলামের মাধ্যমে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে নতুন ৯ টি বিষয়। সংশোধন করা হয়েছে বেশকিছু সিদ্ধান্ত। যেমন- দশম শ্রেণীর আগে নেই কোনো পাবলিক পরীক্ষা। উচ্চমাধ্যমিকের আগ পর্যন্ত থাকবেনা বিভাগ ভিত্তিক পড়াশুনা। ষষ্ঠ থেকে দশম পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ১০ টি অভিন্ন বিষয়ে পড়বে। তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। মূল্যায়ন হবে শিখন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। নতুন শিক্ষাক্রমে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ভিত্তিতে সারা বছর ধরে ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকবে। রয়েছে পেশাভিত্তিক শিক্ষা যেন দশম শ্রেণী শেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর একটি করে পেশায় দক্ষতা তৈরি হয়। সকল শিক্ষার্থীকে সকল ধর্মের বই পড়ানো হবে যা যুগোপযোগী, ধর্মীয় শ্রদ্ধাবোধ তৈরি, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরিতে সহায়তা করবে। এ বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ৪ টি শ্রেণীতে এটি চালু হচ্ছে। ২০২৭ সাল থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পুরোপুরি এটি বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যে, সারাদেশে ৬১ টি স্কুল, কারিগরি ও মাদ্রাসায় পাইলটিং করা হয়েছে। এছাড়াও, ব্লেন্ডেড লার্নিং বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই রূপরেখায়।
নতুন এই কারিকুলাম বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরী। যদিও এটি বাস্তবায়নের আগে শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুতসহ ১১টি বিষয় বাস্তবায়ন আবশ্যক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে সংশ্লিষ্ট রূপরেখায়।উল্লিখিত শিক্ষা কারিকুলামের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শিক্ষক সংকট। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পরিসংখ্যানের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে সরকারি, বেসরকারি কিন্ডারগার্ডেন ও এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়সহ মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৫৮টি এবং শিক্ষার্থী প্রায় ২ কোটি। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫ হাজার ৬২০টি, শিক্ষক ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৩৬৬ জন এবং শিক্ষার্থী ১ কোটি ৪১ লাখ ৪৪৫ জন। দেখা যায়, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গড়ে ১ জন শিক্ষকের বিপরীতে ৩৯ জনের মতো শিক্ষার্থী রয়েছে। দেশে ২০ হাজার ৬০০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩২৩ জন এবং শিক্ষক ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪৫ জন। অর্থাৎ ১ জন শিক্ষকের বিপরীতে শিক্ষার্থী প্রায় ৪২ জন। এছাড়াও ৪ হাজার ৫৫১টি কলেজে মোট শিক্ষার্থী রয়েছে ৪৩ লাখ ৮৫ হাজার ২১০ এবং শিক্ষক ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৬৭ জন(ব্যানবেইস)। এছাড়াও বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট তো রয়েছেই। গ্রামের স্কুলগুলোতে এই সংকটটি প্রকট হয়ে দাঁড়াবে। ফলে শহর ও গ্রামে মানসম্মত শিক্ষায় একটা বৈষম্য তৈরি হবে। তাই এটি এড়াতে সকল স্কুলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগ ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন কারিকুলামের সাথে শিক্ষার্থীদের মেলবন্ধনে প্রয়োজন অধিক যোগ্যতা ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকল শিক্ষকের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা এই সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন শিক্ষা কারিকুলামের সাথে শিক্ষার্থীরা যাতে খাপ খাইয়ে নিতে পারে তার জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘টিচার গাইড’। টিচার গাউড অনুসরণ করে শিক্ষকোরা প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন শিক্ষার্থীদের।
নতুন কারিকুলামের সাথে যুক্ত হয়েছে আইসিটি ও বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কার। এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামো ও দক্ষ জনবল। তাই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা নতুন কারিকুলামের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আরও উন্নত ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় নিয়ামক মানসম্মত বই তৈরি। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক যদি কারিকুলামের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয় তাহলে পুরো পরিকল্পনাই অধরা রয়ে যাবে। তাই নতুন পাঠ্যপুস্তক নির্ধারণ বড় দায়িত্ববোধের জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে।
অভিভাবকদের সচেতনতার বিষয়টিও গুরুত্বের সংগে বিবেচনা করতে হবে। কারন নতুন শিক্ষাক্রমের সাথে ছাত্রছাত্রীদের পরিচিত করা ও তাদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করবেন অভিভাবকেরাই। তাই অভিভাবকদের নতুন কারিকুলামের ইতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে ও সচেতন করতে হবে।কোনো পরিকল্পনা তৈরির পর উল্লেখযোগ্য করণীয় হলো তা যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়মিত মনিটরিং এর আওতায় রাখা। নতুন কারিকুলামের বাস্তবায়ন যেন যথাযথ হয় ও প্রত্যেকটি নির্দেশনা মেনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যালয় এবং শিক্ষকদের নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর। বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীগণ মানবিক মানুষ হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জন করবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঝিনাইদহে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ, ঋণের দায়ে ঘরছাড়া হওয়ার আতঙ্কে কৃষকমাকসুদুল হক, ঝিনাইদহ- ১১ মার্চ, মঙ্গলবার ঝিনাইদহের বেশিরভাগ কৃষক এনজিও বা মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এখন সেই ঋণের কিস্তি শোধ করার চাপে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই লোকসানে ফসল বিক্রি করছেন। পবিত্র রমজান ও সামনে ঈদ। পরিবারের নতুন পোশাক কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। ঝিনাইদহের মাঠজুড়ে এখন পেঁয়াজ তোলার কর্মযজ্ঞ। জেলার শৈলকূপা ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে মাঠে আগাম জাতের পেঁয়াজ উত্তোলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ এর অর্ধেক ঘরে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলায় এ বছর রেকর্ড প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে হরিণাকুণ্ডু উপজেলাতে ২৫০০ হেক্টর জমিতে এবার পেঁয়াজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন্তু পেঁয়াজের বর্তমান দামে চাষীর কপালে চিন্তার ভাঁজ। প্রতি মণে উৎপাদন খরচ ১৫০০ টাকার বেশি হলেও বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ও হাট ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা দল বেঁধে জমি থেকে পেঁয়াজ তুলছেন। কেউ পরিষ্কার করছেন, কেউ বা বস্তাবন্দি করে হাটে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায় এক চরম সত্য—পেঁয়াজ চাষে যে পরিমাণ হাড়ভাঙা খাটুনি আর অর্থ ব্যয় হয়েছে, বর্তমান বাজার দরে তার অর্ধেকও উঠে আসছে না। সার, বীজ, সেচ আর শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী হলেও হাটে গিয়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে পানির দরে। চাষিদের অভিযোগ। বর্তমানে পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম হওয়ায় সব কৃষক একসাথে পেঁয়াজ বাজারে নিয়ে আসছেন। হাটে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে । ভরা মৌসুমে পেঁয়াজ আমদানির ফলে স্থানীয় বাজারের দেশি পেঁয়াজের কদর কমছে। পাইকাররা আমদানিকৃত পেঁয়াজের দোহাই দিয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কমিয়ে রাখছেন । স্থানীয় পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই। ফলে পচে যাওয়ার ভয়ে এবং ঋণের কিস্তি শোধের চাপে কৃষকরা পানির দরেই পেঁয়াজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন । প্রান্তিক চাষি ও পাইকারি বাজারের মাঝখানে থাকা আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একটি বড় অংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুণ্ডুর কৃষকরা বলছেন, বীজ, সার ও শ্রমিকের যে আকাশচুম্বী দাম, সেই তুলনায় বাজারের এই দর তাদের পথে বসিয়ে দেবে। বিশেষ করে সামনে রমজান ও ঈদ থাকায় পরিবারের বাড়তি খরচ মেটাতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজ আমদানি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহের ব্যবস্থা করলে এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। অন্যথায় লোকসানের ভারে ধসে পড়বে এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com