নিহতরা হলেন—পাবনার ভাড়ারা ইউনিয়নের কোলদি এলাকার জাহিদ হোসেনের ছেলে মো. আলিফ হোসেন (১০) এবং আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের বাশার শেখের ছেলে বাকী বিল্লাহ (৩৫)। বাকী বিল্লাহ পেশায় মুরগি ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপপুর ও পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ঘুরে মায়ের সঙ্গে সিএনজিতে করে পাবনায় ফিরছিল ছোট্ট আলিফ। হয়তো আনন্দের সেই ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফেরার পথেই অপেক্ষা করছিল এক হৃদয়বিদারক পরিণতি।
দাশুড়িয়া-কুষ্টিয়া মহাসড়কের কোলেরকান্দি এলাকায় পৌঁছালে একটি ট্রাক সিএনজিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে শিশু আলিফ সিএনজি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যায়। সন্তানকে চোখের সামনে সড়কে পড়ে যেতে দেখে তার মা আঁখি খাতুন অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
ঠিক সেই মুহূর্তে সড়কে পড়ে থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে এগিয়ে যান মোটরসাইকেল আরোহী বাকী বিল্লাহ। কিন্তু শিশুটিকে উদ্ধার করার আগেই পেছন দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শিশু আলিফ ও মানবিকতায় এগিয়ে আসা বাকী বিল্লাহর মৃত্যু হয়।
গ্রিনসিটি মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মাজেদুল ইসলাম জানান, রাত সোয়া ৮টার দিকে খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে যান। পরে শিশু ও মোটরসাইকেল আরোহীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনায় দুজনেরই মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
তিনি আরও জানান, শিশুটির মা আঁখি খাতুন আহত হয়েছেন। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পাকশী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নান্নু খান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাক ও সিএনজি পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা করা হবে।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে গিয়ে বাকী বিল্লাহ নিজের জীবনও হারালেন—এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।