ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার চলমান নির্বাচনী সমঝোতা ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুলতান আহমেদ এক ভিডিও বক্তব্যে এই দুই দলের বর্তমান নির্বাচনী সমীকরণ ও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
সুলতান আহমেদের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে চাইলেও জামায়াতে ইসলামী ভিন্নধর্মী ও কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামায়াতের ভূমিকা ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিমুখী কৌশলে জামায়াতে ইসলামী
বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর দুটি কৌশলের কথা উল্লেখ করা হয়। প্রথমত, ইসলামী আন্দোলনের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতে জামায়াত নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে বা সমর্থন না দিয়ে চাপ সৃষ্টি করছে। এর মাধ্যমে জামায়াত এমন এলাকাতেও নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে তারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
দ্বিতীয়ত, ইসলামী আন্দোলন যেন ভবিষ্যতে বড় কোনো রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে না পারে, সেজন্য তাদের আসনসংখ্যা সীমিত রাখার একটি সূক্ষ্ম কৌশল অনুসরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বরিশাল ও রংপুরে টানাপোড়েন
আঞ্চলিক উদাহরণ হিসেবে সুলতান আহমেদ বরিশাল ও রংপুর বিভাগের কথা তুলে ধরেন। বরিশাল-৫ আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীরের নিজস্ব আসন হওয়া সত্ত্বেও সেখানে জামায়াত কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাচ্ছে না।
অন্যদিকে, রংপুর বিভাগের প্রায় সাতটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামী সেখানে ছাড় দিতে রাজি নয় বলে অভিযোগ করা হয়।
স্বচ্ছতা বনাম গোপনীয়তা
দুই দলের মধ্যে আরেকটি বড় পার্থক্য হিসেবে উঠে এসেছে তথ্য প্রকাশের বিষয়টি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের প্রার্থীদের তালিকা A, B ও C ক্যাটাগরিতে ভাগ করে প্রকাশ করেছে। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থীদের তালিকাকে ‘গোপনীয় বিষয়’ হিসেবে রেখে দিয়েছে, যা জোটের ভেতরে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন সুলতান আহমেদ।
জোট ছাড়ার সম্ভাবনা কম
সব বাধা ও কৌশলগত চাপের পরও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে সরে আসবে না বলেই মনে করছেন এই বিশ্লেষক। তাঁর ভাষায়, ইসলামী আন্দোলন ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের চেয়ে ইসলাম, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে—এমন অবস্থান থেকেই তারা জোটে থাকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সমীকরণ আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।