ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে (এসএনসিসি) প্রধান নির্বাহী বা সেক্রেটারি পদে আনা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়িকে আর সাবেক প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টার পদ। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এ রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গতকাল রোববার বার্তায় বাঘের জোলগাদারকে নিজের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন মোজতবা খামেনি। নিজের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা সে বার্তায় মোজতবা বলেছেন, “পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। প্রিয় ভাই ড. মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর, আপনার মূল্যবান অবিজ্ঞতাকে বিশেষ বিবেচনায় এনে, আমি আপনাকে আমার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিলাম।”
খামেনি যখন এই পোস্ট দিয়েছেন, তার কাছাকাছি সময়েই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে মোহসিন রেজায়ির নিয়োগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের দপ্তর।
প্রেসিডেন্ট পোজেশকিয়ানের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবয়েই এক এক্সবার্তায় এ সম্পর্কে বলেছেন, “সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব পদ থেকে মোহাম্মদ বাকের জোলগাদরের পদত্যাগ এবং নতুন পদে নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মোহসেন রেজাইকে এই সংস্থার প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছেন।৭১ বছর বয়সী মোহসিন রেজায়ি ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার ছিলেন। তারপর রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন রেজায়ি। গত মার্চে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হন রেজায়ি। তারপর ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদে এলেন তিনি।
গত জুলাই মাসে এক বক্তৃতায় রেজায়ি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে বর্তমানে কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এই এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ কয়েক ডজন পরমাণু বোমার চেয়েও জরুরি।