ইরানের দীর্ঘ ইতিহাসে বারবার বিদেশি আগ্রাসনের মুখে পড়ার এক নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে ২০২৬ সালের এই উত্তাল সময়ে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযান দেশটির ওপর এক ভয়াবহ ধ্বংসলীলা চালিয়ে যাচ্ছে। ১৫ মার্চ রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হলেও ইরানিদের চোখে এটি কেবল বর্তমানের সংঘাত নয় বরং হাজার বছরের ঐতিহ্যের ওপর আসা এক প্রাচীন পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি মাত্র। বিশিষ্ট চিন্তাবিদ হামিদ দাবাশি এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন এমন এক সভ্যতা হিসেবে, যা ধ্বংসস্তূপ থেকে বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
ইরানি জনগণের ঐতিহাসিক স্মৃতি অত্যন্ত প্রখর এবং গভীর। তাদের কাছে খ্রিস্টপূর্ব ৩৪৪ অব্দের আলেকজান্ডারের পারস্য বিজয় কিংবা সপ্তম ও ত্রয়োদশ শতাব্দীর আরব ও মঙ্গোল আক্রমণ কোনো সুদূর অতীত নয় বরং বর্তমান চেতনারই অংশ। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় ইরান বারবার দখলদারদের পদতলে পিষ্ট হলেও তার সাংস্কৃতিক ও সভ্যতার শিকড় কখনো উপড়ে ফেলা সম্ভব হয়নি। বর্তমানের এই সংকটকে ইরানিরা তাদের সেই সহস্রাব্দের লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দেখছে, যেখানে প্রতিটি আগ্রাসন দেশটিকে ভেতর থেকে আরও বেশি একতাবদ্ধ এবং আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।