এবারের নির্বাচনে দুইজন প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন—একজন মেজর হাফিজ সাহেব, অপরজন নিজামুল হক নাঈম সাহেব।
যেহেতু এনসিপি ইসলামিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাই লালমোহনে এনসিপির সমর্থন সম্ভবত নাঈম ভাই পাবেন। তবে মেজর হাফিজ সাহেব একজন হেভিওয়েট প্রার্থী।
ব্যক্তি হিসেবে মেজর হাফিজ সাহেব যে সৎ মানুষ—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, একাধিকবারের এমপি ও মন্ত্রী। তবে তাঁর একটি দুর্বলতা রয়েছে—তিনি অত্যন্ত ভদ্র ও অতিরিক্তভাবে নেতা-কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে অসাধু নেতা-কর্মীরা অনেক সময় তাঁর মাথায় লবণ রেখে বড়ই খাওয়ার সুযোগ পায়। এর উদাহরণ লালমোহনের রাজনৈতিক ইতিহাসে অসংখ্য পাওয়া যাবে।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, তিনি এই ভদ্রতার ফাঁদে পড়ে নিজের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করছেন নিজ দলে। ০৫ আগস্ট ২০২৪-এর আগে লালমোহনে বিএনপি দাঁড়াতেই পারেনি। বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীরা তখন রাজধানীসহ জেলা-জেলার বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন। কেউ কেউ টিকে থাকার জন্য জেলার বাইরে থেকে আওয়ামী লীগের মিটিং-মিছিলে অংশ নিয়েছেন, আবার পাশাপাশি বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামও চালিয়ে গেছেন—এটাকে কৌশল হিসেবেই ধরা যায়। তবে অধিকাংশই একচেটিয়াভাবে বিএনপির সঙ্গেই ছিলেন।
কিন্তু তারা কেউই নিজ থানা লালমোহনে টিকে থাকতে পারেননি বা সেখানে সরাসরি রাজনীতি করতে পারেননি। আর লালমোহনে যারা তখন বিএনপি করতেন, তারা অনেকেই কৌশলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিশে টিকে থাকার চেষ্টা করেছেন।
মেজর হাফিজ সাহেব প্রথম ভোটের মাধ্যমে পরাজিত হন মেজর জসিমের কাছে। যদিও মেজর জসিম তাঁর এমপিত্ব ধরে রাখতে পারেননি। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত লালমোহনে সেই নির্বাচনে বিএনপির এমন ভরাডুবি কেন হয়েছিল? কারণটা সবারই জানা। মেজর হাফিজ সাহেবের অতিরিক্ত ভদ্রতা ও অসাধু নেতা-কর্মীদের ওপর নির্ভরতার কারণে প্রকৃত বিএনপি উপেক্ষিত হয়েছিল, আর সেই কারণেই দলের বড় একটি অংশ তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল।
বর্তমানে লালমোহনে বিএনপির অবস্থা কী—আমি জানি না। মেজর হাফিজ সাহেব আগের মতোই আছেন, নাকি কোনো পরিবর্তন এনেছেন—সেটাও পরিষ্কার না। তবে লালমোহনে যেই আসুক, সেটাই যেন ভালো হয়। নাঈম ভাই এলেও সমস্যা নেই—তিনি ভালো মানুষ। হাফিজ সাহেবও ভালো মানুষ।
আমার একটাই দোয়া—লালমোহনে যেন পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক চর্চা হয়। কোনো প্রতিহিংসা, ভিন্নমত দমন, হামলা, সন্ত্রাস বা অপরাধ যেন আমার প্রিয় জন্মভূমিতে না ঘটে। রাজনীতি হোক জনসেবার জন্য, জনগণের মাথার ওপর ছড়ি ঘোরানোর জন্য নয়।