রংপুরের কাউনিয়া দাখিল মাদ্রাসার একটি টিনশেড ঘর গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোবাশ্বের আহমদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে ঘরের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন অফিস সহকারী মেহের আলী। তিনি দাবি করেছেন, “আমি এটি কিনে নিয়েছি।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘরটি সম্প্রতি গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ বা ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো নিলামের নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তাহের আলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও বিষয়টি জানানো হয়নি। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে অফিস সহকারী মেহের আলী ঘরটি ভেঙে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘরটির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিলাম ছাড়াই ব্যক্তি স্বার্থে ঘরটি বিক্রি করেছেন সুপার মোঃ মোবাশ্বের আহমদ এবং তা কিনেছেন অফিস সহকারী মেহের আলী। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মাদ্রাসার সুপার মোঃ মোবাশ্বের আহমদ জানিয়েছেন, “ঘরটি রেজুলেশনের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করা হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, “মাদ্রাসার সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা যাবে না। এটি স্পষ্ট অনিয়ম। দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনসার আলী বলেন, “নিলামের পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব মাদ্রাসা সুপারের।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ তাহের আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি জানার পর তিনি বিক্রয় কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংকন পাল বলেন, “উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।