কুমিল্লার হোমনায় এক গৃহবধূকে তার স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে বর্বরোচিত গণধর্ষণের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনতা। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির (ফাঁসি) দাবিতে আজ রোববার এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টায় হোমনা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হোমনা উপজেলা শহীদ মিনার চত্বরে এসে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সংহতি প্রকাশ
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সংহতি প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হোমনা সরকারি কলেজ, হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, কফিল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খাদিজা মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ছিল একটাই দাবি— “ধর্ষণকারিদের ফাঁসি চাই”।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, “দিনের আলোতে বা রাতের অন্ধকারে স্বামীর কোল থেকে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে ধর্ষণের মতো ঘটনা একটি সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অতিদ্রুত সকল আসামিকে গ্রেফতার করে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন দুঃসাহস না দেখায়।
প্রকাশ , গত ১৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে হোমনা থানার ১নং মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের ছিনাইয়া মোড়ের পশ্চিম পার্শ্বে উত্তরকান্দি সড়কে তিতাস উপজেলায় যাওয়ার পথে কৃষি কলেজ এলাকা অতিক্রম করার পর ওপারচর গ্রামের আক্তার মিয়ার ছেলে মো. আশিকুর রহমান আশিক (২৪)সহ ৫ – ৬ জন সহযোগী নিয়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে। তারপর তারা জোরপূর্বক অটোরিকশাসহ ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে উত্তরকান্দি সড়কের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে দূরে নিয়ে গিয়ে আশিকুর রহমান জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে হোমনা থানায় ধর্ষন মামলা করেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায়
জড়িত ৩ জনকে আটক করে কুমিল্লা জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকীদের ধরতে চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।