ইরান যুদ্ধের বৈশ্বিক প্রভাবে সারা দেশের ন্যায় ঝিনাইদহ জেলা জুড়েও চলছে তীব্র জ্বালানি সংকট। শনিবার (১১ এপ্রিল) জেলার বিভিন্ন পাম্পে তেল নিতে আসা হাজার হাজার মানুষের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে; এক লিটার তেলের জন্য দিনের অধিকাংশ সময় লাইনে ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে দাপ্তরিক ও ব্যক্তিগত কাজ ব্যাহত হওয়ায় পেশাজীবীদের মাঝে দিন দিন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বাঁধছে।
ডিপো থেকে চাহিদামতো তেল না পাওয়ার অজুহাতে পাম্প মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন। পাম্প মালিকদের দাবি, বর্তমানে তারা চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে অনেক কম পরিমাণ তেল পাচ্ছেন, ফলে ক্রেতাদের পর্যাপ্ত জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, স্থানীয় পর্যায়ে একটি অসাধু চক্র তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ‘উজ্জ্বল সাগর ফিলিং স্টেশন’-এ শুধুমাত্র চাকরিজীবী ও শিক্ষকদের মাঝে পেট্রোল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দিনশেষে অনেক শিক্ষকই তেল না পেয়ে নিরাশ হয়ে ফিরে গেছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল না পাওয়ায় উপস্থিত শিক্ষকদের মাঝে তীব্র ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে এসে সারাদিন অপেক্ষা করেও যদি খালি হাতে ফিরতে হয়, তবে কর্মস্থলে যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
মাঠ পর্যায়ের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও সাধারণ বাইকারদের ২-৩ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা ফেরাতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
পেশাজীবীদের সময়ের দাবি।
ভোগান্তি কমাতে এবং তেল চুরির মহোৎসব বন্ধ করতে বৈধ কাগজপত্র যাচাই সাপেক্ষে জরুরি ভিত্তিতে ‘ফুয়েল কার্ড’ প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ। তাদের মতে, কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করলে প্রকৃত ব্যবহারকারী বা পেশাজীবীরা জ্বালানি পাবেন এবং কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রোধ করা সম্ভব হবে।
ঝিনাইদহ জেলাবাসীর সময়ের দাবি, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসক মহোদয় অতি দ্রুত ফুয়েল কার্ডের ব্যবস্থা করে সকল প্রকার সিন্ডিকেট ভেঙে সাধারণ ও পেশাজীবী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করবেন।