ড. ইউনূসকে হেনস্তা করে জুলাই-আগস্টের দায় এড়ানো যাবে না: এবি পার্টি

নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে স্লোগান, অপমান ও হেনস্তার ঘটনায় আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের নিন্দা জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটি বলেছে, ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, গুম-খুন, ভোটাধিকার হরণ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের দায় আড়াল করা যাবে না।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এক যৌথ বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ড. ইউনূসের নীতি বা ভূমিকার সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে বিদেশের মাটিতে একজন সম্মানিত নাগরিককে ঘিরে অপমান ও হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্লোগান দিয়ে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যায় না।

তারা বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এবং ড. ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণ করেন একই বছরের ৮ আগস্ট। ফলে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের আগের ঘটনাবলির দায় তাঁর ওপর চাপানো সমীচীন নয়। জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ড, দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উত্থাপিত বিষয়গুলো উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এসব ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, বিরোধী মত দমন, ভোটাধিকার হরণ ও দুর্নীতির অভিযোগের জবাব স্লোগানের মাধ্যমে এড়ানো যাবে না। বিমানবন্দরের ঘটনাটি দলটির ফ্যাসিবাদী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের অভিযোগগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা জরুরি। একই সঙ্গে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের গণহত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগেরও বিচার শুরু করতে হবে বলে দাবি জানান এবি পার্টির নেতারা।

এবি পার্টির নেতৃদ্বয় বলেন, ড. ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা যায় না। রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে সত্য, শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা প্রয়োজন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে; তাঁদের মৃত্যু কোনোভাবেই উল্লাসের উপকরণ হতে পারে না।

বিবৃতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ শহীদের মৃত্যুর দায় দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তাঁরা।

নেতৃদ্বয় নিউইয়র্কের বিমানবন্দরের ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রবাসে বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ইতিহাসের দায় ব্যক্তিগত আক্রমণ করে মুছে ফেলা যায় না।

মন্তব্য করুন

জনপ্রিয় খবর

এ সম্পর্কিত আরো পড়ুন

Scroll to Top