বর্ষা শেষ হওয়ার আগেই কুড়িগ্রামে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে তিস্তা নদীর ভাঙন। রাজারহাট উপজেলার বুড়িরহাট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবাঁধে হঠাৎ ভাঙন দেখা দিয়ে প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বুড়িরহাট ক্রসবাঁধের রাস্তার বিভিন্ন অংশে ভাঙন শুরু হয়। তীব্র স্রোতে বাঁধের নিচের মাটি ও বালু সরে যাওয়ায় ভাঙন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্রসবাঁধটি পুরোপুরি ধসে পড়তে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে রাজারহাট উপজেলার বড়দারগা, বুড়িরহাট, রামহরি, চতুরা, কালিরমেলা ও ডাংরারহাট গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বেন। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়বে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অন্তত পাঁচটি স্থানীয় বাজার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৭৩ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ৭৫ মিটারে। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩১ মিটার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল ৭টার দিকে প্রথমে ক্রসবাঁধের রাস্তার একটি অংশে ভাঙন দেখা দেয়। পরে উত্তর ও দক্ষিণ পাশে ভাঙন ছড়িয়ে পড়ে। নদীর প্রবল স্রোতে বাঁধের পাদদেশের মাটি সরে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছেন তারা।
বুড়িরহাটের বাসিন্দা বাহারর আলী ও সালাম মিয়া বলেন, গত বছরও এ এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এবারও আগেভাগে ভাঙনের লক্ষণ দেখা গেলেও সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম (৩৫) বলেন, “শুকনা মৌসুমে এখানে বালু জমেছিল। একটি অংশ তখনই কিছুটা দেবে গিয়েছিল। কিন্তু তখন কাজ করা হয়নি। এখন পানি বেড়েছে, বালুও নেই—এ অবস্থায় ভাঙন কীভাবে ঠেকানো হবে?”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বুড়িরহাট ক্রসবাঁধে ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু জিওব্যাগ ফেলেই নয়, স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তিস্তার স্রোতে গুরুত্বপূর্ণ এই ক্রসবাঁধটি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।