দুই হাত নেই, বাম পা দিয়ে লিখে চলমান এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে অদম্য শারীরিক প্রতিবন্ধী সিয়াম।অভাব, দরিদ্রতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে ইচ্ছা আর মনোবল নিয়েই এগুতে চায় সে।জন্মের পর থেকে দুটি হাতবিহীন জীবন সংগ্রামে নেমেছে হতদরিদ্র পরিবারে প্রতিবন্ধী এই কিশোর। মনে বিন্দুমাত্র নেই কোন হতাশা।হতে চাই সে সরকারি বড় কোন কর্মকর্তা। বিদ্যালয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের গ্রামের দিনমজুর দম্পতি জিন্না মিয়া ও জোসনা বেগমের ছেলে সিয়াম। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে সিয়াম ছোট।
জন্ম থেকেই তার দুই হাত নেই। কিন্তু থেমে নেই তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা। তবে পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রাথমিকের মাঝপথে বন্দ হয়ে যায় তার পড়ালেখা। বিদ্যালয় থেকে বেতন মওকুফ করলে পুনরায় পড়ালেখা শুরু করে সিয়াম। সে এবার ডোয়াইল ইউনিয়নের চাপারকোনা মহেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সরেজমিনে স্থানীয় মুজিবুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে সিয়ামকে পা দিয়ে লিখে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরিক্ষা দিতে দেখা গেছে তাকে। পা দিয়ে লিখে পরিক্ষা দেওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে,আমার দুই হাত না থাকলেও তাতে আমার কোনও সমস্যা হয় না। আমার বাবা গরিব মানুষ, তার পক্ষে আমাদের ভাই বোনের পড়ালেখার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে আমি পড়ালেখা করতে চাই।
লেখাপড়া করে সরকারি বড় একটা কর্মকর্তা হতে চাই। চাকরি করে বাবা মায়ের দুঃখ ঘোচাতে চাই। হরখালি মজিবুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয় পরিক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব আবুল কালাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ার তার জন্য বিশেষ ব্যাবস্থায় পরিক্ষা নেওয়া হচ্ছে। ছেলেটি অনেক মেধাবী। পা দিয়েই পরিক্ষা দিচ্ছে সে।তবে পা দিয়ে লিখলেও তার লেখা অনেক দ্রুত। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় কেন্দ্র সচিব তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় পরিক্ষা নিতে বলা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের চেয়ে ৩০ মিনিট তার জন্য বেশি সময় দেওয়া হয়। সিয়ামের জন্য তার দপ্তর থেকে সকল সুযোগ – সুবিধা দেওয়া হবে তিনি জানান। সিয়ামের জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এ শিক্ষা কর্মকর্তা।