নাটোর সদর উপজেলার ভেদরার বিলে পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে এক তরুণীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।নির্জন পুকুরপাড়ে এমন নৃশংস হত্যায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নাটোর সদর উপজেলার বড়ভিটা গ্রামের পাশে ভেদরার বিলে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের আলামত মিলেছে। পুকুরপাড়ের একটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক।
”নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরার বিল এলাকার মাঝামাঝি একটি পুকুরের পাশে থাকা পরিত্যক্ত টিনের ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ব্যবহারবিহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। সোমবার দুপুরে কয়েকজন কৃষক ও পথচারী ওই ঘরের ভেতরে ঢুকে রক্তাক্ত অবস্থায় এক তরুণীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তারা বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশকে অবহিত করেন।
সংবাদ পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ওসি শফিকুল ইসলাম জানান,
“প্রাথমিকভাবে নিহত তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে। মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার আলামত পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলটি অত্যন্ত নির্জন হওয়ায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত তরুণীকে অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে ফেলে রাখা হয়েছে নাকি এই পরিত্যক্ত ঘরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুলিশ আশপাশের এলাকা ঘিরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেগুলোর ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভেদরার বিল এলাকার ওই পুকুরপাড় সন্ধ্যার পর একেবারেই জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। এমন নির্জন স্থানে এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করাই এখন তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে হত্যার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।