বাংলার ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে নাটোর শিল্পকলা একাডেমির ব্যাবস্থাপনায় এবং জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় সপ্তাহ ব্যাপী জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম,জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল রাকিবিল বারী সহ ক্রীড়া সংস্থার অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। এই উৎসব আগামী ৭ তারিখ পর্যন্ত চলবে।
বিভিন্ন পিঠার স্টলে আগত দর্শনার্থীরা এই উৎসবে এসে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে পিঠা উৎসবে এসে আমাদের বেশ ভাল লাগছে। অনেক রকম পিঠা তারা দেখলেন এবং নামের সাথে পরিচিত হলেন। আমাদের এই গ্রামীন সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। তারা আয়োজকদের কাছে প্রতি বছর এই আয়োজন করার দাবী জানালেন। অংশগ্রহণকারী স্টলের আয়োজকরা বলেন, “ অনেক রকম পিঠা তৈরী করেছি। ৩০ থেকে ৩৫ রকম পিঠা তারা তৈরী করেছে। ভাপা, পুলি, পাটিসাপটা, বিস্কুট পিঠা, খেজুর পিঠা, চিতই পিঠা, গোলাপ পিঠা, কুশলী, সিরিঞ্জ পিঠাসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পিঠার কমতি নেই। এর মধ্যে অনেক পিঠার নাম অনেকে জানেনা। জেলা কালচারাল অফিসার আব্দুল রাকিবিল বারী বলেন, সবাইকে এসব পিঠার সাথে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার ও গ্রামীন সংস্কৃতিকে সবার সামনে তুলে ধরার জন্য এই আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৩ঠা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত পিঠা উৎসবের স্টলগুলো দর্শকদের জন্য খোলা থাকবে। এছাড়াও থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভুঞাঁ বলেন, “বাঙ্গালীর সংস্কৃতির একটি অংশ এই জাতীয় পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আমাদের অতিথি আপ্যায়ন এই পিঠা পুলি দিয়ে করা হয়। এর মাধ্যমে বাঙ্গালীর আতিথেয়তা আরো ফুটে ওঠে। এটির আরো প্রসার আর বাঙ্গালীর জাতিসত্তা আরো বিকশিত হোক। শিল্প সংস্কৃতিতে বাঙ্গালী সারা বিশ্বে আরো পরিচিত হোক।