নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। এ ঘটনায় অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশি হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন—নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল।
ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। এসব আলামত বিশ্লেষণ এবং আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি সামনে আসছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
প্রয়োজনে আরও সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতের কোনো এক সময় বাড়ির ভেতরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ নিয়ে আগেও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।