দেশব্যাপী চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে গুজব, অপপ্রচার এবং বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গৌরনদী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী আব্দুল হালিম খান। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ সংকট সাময়িক হলেও গুজব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্য, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
রোববার (২৯ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা, অবকাঠামোগত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং চাহিদা-সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, মানুষের অসুবিধা ও দুর্ভোগের বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করে। তবে যেকোনো সমস্যা বা অসন্তোষ প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পন্থা অনুসরণ করা জরুরি। কোনোভাবেই সরকারি বা ব্যক্তিগত সম্পদের ক্ষতি, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো উচিত নয়।
প্রকৌশলী আব্দুল হালিম খান আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইবিহীন তথ্য, গুজব বা উসকানিমূলক পোস্ট শেয়ার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী, তরুণ সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা, সহনশীলতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের কোনো বিকল্প নেই।
বিবৃতিতে ডিজিএম আরও বলেন, দেশের স্বার্থ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আগামী প্রজন্মের নিরাপদ ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সবাইকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। ধৈর্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমেই বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। এ সময় জনগণের সহযোগিতা, সংযম ও সচেতনতাই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।