পঞ্চগড়ে ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে আকিরুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার টেঙ্গনমারী এলাকার একটি রেলক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আকিরুল ইসলাম পঞ্চগড় সদর উপজেলার বান্দেরা মাগুড়া সিপাহীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মো. আরিফুল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী একটি স্পেশাল ট্রেন পঞ্চগড় স্টেশন ত্যাগ করার পর টেঙ্গনমারী এলাকায় পৌঁছালে রেললাইন ক্রস করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। গাড়িটি ঠেলে রেললাইন পার করার চেষ্টা করলে আকিরুল ইসলাম ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সংঘর্ষে মাইক্রোবাসটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে বারবার দুর্ঘটনার অভিযোগ তুলে তারা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে পিলার ফেলে রেলপথ অবরোধ করেন। এতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ঢাকা–পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাত ৯টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া একতা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে পুনরায় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে ফিরে আসে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও সান্তাহার থেকে পঞ্চগড়গামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। এতে উভয় পাশে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে পুলিশ এবং পরে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে স্থানীয় দুই-তিনটি ইউনিয়নের লোকজনকে সরানো সম্ভব হয়নি। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
দীর্ঘ আলোচনার পর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতেই উভয় পাশে আটকে থাকা ট্রেনগুলো চলাচল শুরু করে।
এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, অরক্ষিত রেলগেটের কারণে এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। নিহতের পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ঘটনার পর বর্তমানে রেলপথে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।