কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় অপরাধ দমনে বড়সড় সাফল্য পেল মহিপুর থানা পুলিশ। পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে ৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫৩ হাজার টাকাসহ দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত সোয়া ১০টার দিকে কুয়াকাটা পৌর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের পেছনের টিনশেড ঘর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদক কারবারি হলেন:
মো. শাহিন আলম ফকির (৪২): বরগুনা জেলার আমতলী থানার কৃষ্ণনগর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মো. ইমরান হাওলাদার (১৯): পটুয়াখালী জেলার তুলাতলী এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
মহিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলের পেছনে মাদকের কেনাবেচা চলছে—এমন একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের বিশেষ আভিযানিক দল সেখানে আকস্মিক অভিযান চালায়। হোটেলের পেছনের একটি টিনশেড ঘরে তল্লাশি চালিয়ে আসামিদের হেফাজত থেকে ৯৯ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার বিভিন্ন স্পটে সুকৌশলে মাদকের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল এবং ব্যবসা চালিয়ে আসছিল।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এই সফল অভিযান পরিচালনা করেছি। আটককৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পর্যটন নগরীকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে মাদক নির্মূলে মহিপুর থানা পুলিশের এই কঠোর ও আপসহীন অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
কুয়াকাটার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধ করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে কমে আসবে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।