1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২১ দেশে কাজ করছে বাংলাদেশের ২৪ বাণিজ্যিক উইং: বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মিথ্যা অভিযোগে কারা নির্যাতিত শাকিলা ফারজানা সৌদি আরবে অবস্থানরত ২২০০০ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যবসায়ীর কাছে বিএনপির তিন নেতার ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি সোনাতলায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন চিলমারীতে দুই বছরের শিশু হত্যার রহস্য উদঘাটনে সংবাদ সংগ্রহে তিন সাংবাদিককে বাধা সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঘাস ব্যবসায়ীর হাত ভাঙা ‎ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ‌ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে উজাড় হচ্ছে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’

প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে উজাড় হচ্ছে কুয়াকাটার ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’

জাহিদুল ইসলাম মামুন
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা ঝাউবন ও ম্যানগ্রোভ অরণ্যে সাজানো কুয়াকাটার চর গঙ্গামতি সমুদ্রসৈকত, যা একসময় পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত ছিল। আজ স্থানীয় প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যে ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার ঐশ্বর্য। অবাধে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ফলে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে সৈকতের বিস্তীর্ণ এলাকা, কমছে জীববৈচিত্র্য, আর হতাশ হয়ে ফিরছেন ভ্রমণপিপাসুরা। দেশের দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে অবস্থিত পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতির চর প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সমুদ্রসৈকত। এই সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এখানকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। ঝাউ ও বিভিন্ন ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছপালার ছায়ায় পর্যটকরা খুঁজে পেতেন প্রশান্তি, আর লাল কাঁকড়া ও বন্যপাখির বিচরণে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই অতীত। বন উজাড়ের ফলে সৈকতের বিভিন্ন অংশ এখন অনেকটাই বিরানভূমির মতো।

তীব্র রোদে ছায়াহীন হয়ে পড়েছে পর্যটন এলাকা, ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন দর্শনার্থীরা। নরসিংদী থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক সুবর্ণা ঘোষ বলেন, ‘মিনি সুইজারল্যান্ডের কথা অনেক শুনেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দেখলাম গাছ নেই, ছায়া নেই— ছবি তুলতেও ভালো লাগে না। কাটা গাছের গুঁড়ি চোখে পড়ে। রোদে বসা যায় না।’ একই অভিজ্ঞতার কথা জানান খুলনা থেকে আসা পর্যটক সিয়াম আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আগে এখানে অনেক গাছ ছিল, লাল কাঁকড়াও বেশি দেখা যেত। এখন গাছ কমে যাওয়ায় কাঁকড়ার সংখ্যাও কমে গেছে। আগের সেই সৌন্দর্য আর নেই।’

 

 

স্থানীয় জেলে মামুন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, ‘বন বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিন-রাত চলছে গাছ কাটা। প্রভাবশালীরা ট্রলার নিয়ে এসে গাছ কেটে নিয়ে যায়। অনেকেই জ্বালানি কাঠ বানিয়ে বিক্রি করে।’

 

 

এ বিষয়ে গঙ্গামতি ফরেস্ট ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক কালবেলাকে জানান, স্থানীয় কমিউনিটির বাসিন্দারাই বনখেকো দলের হোতা, আর চিহ্নিত করে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। এখনো পর্যন্ত আটটি মামলা করা হয়েছে।

 

 

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান কালবেলাকে জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। বন রক্ষায় আমরা সোচ্চার রয়েছি। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সব বিষয়ে অবহিত করা হয়। আর চিহ্নিত করে বনখেকোদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com