দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (আজ) সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সমাজসেবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘আত্ম অনুসন্ধান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবন্ধী শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, সম্ভাবনার প্রতীক
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন,
“শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। তারা সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
তিনি বলেন, বিশ্বের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—অনেক মহান ব্যক্তি শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মেধা, চিন্তা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে সমাজ ও সভ্যতাকে সমৃদ্ধ করেছেন। কেউ হাঁটতে পারেননি, কেউ হুইলচেয়ারে জীবন কাটিয়েছেন—তবুও তাঁদের চিন্তা ও মনন আলোকিত করেছে পুরো বিশ্বকে।
জেলা প্রশাসক আক্ষেপ করে বলেন,
“আমাদের সমাজে এখনো দেখা যায়—কোনো পরিবারের সন্তান শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে সমাজ তো বটেই, কখনো কখনো পরিবার থেকেও সে অবহেলার শিকার হয়। এই মানসিকতা শুধু বেদনাদায়ক নয়, অমানবিকও।”
সচেতনতা তৈরিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে উদ্যোগ জরুরি
তিনি আরও বলেন, শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি ও সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে। শিশুদের শেখাতে হবে—শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো অযোগ্যতার পরিচয় নয় এবং কোনো শিশুকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য বা অবহেলার চোখে দেখা যাবে না।
“যথাযথ সুযোগ, সহায়তা ও ভালোবাসা পেলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুরাই হতে পারে আগামীর গর্ব এবং সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শক্তি,”—বলেন তিনি।
সভাপতিত্ব ও অন্যান্য বক্তারা
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নয়ন কুমার রাজবংশী সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ।
এছাড়া আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমানসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।