দেশে প্রথমবারের মতো মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সোমবার (১১ মে) বাজেটসংক্রান্ত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, জিপ, বাস ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ রয়েছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই তালিকায় মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারও যুক্ত হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসি অনুযায়ী মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর নির্ধারণের প্রস্তাব থাকতে পারে। একই সঙ্গে এলাকাভেদে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম কর আরোপের কথাও আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, নিবন্ধনের অভাবে দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঠিক সংখ্যা জানা যায় না। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশে প্রায় ৫০ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রয়েছে, যার বড় অংশ রাজধানীতে চলাচল করে।
এই খাতকে নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মের আওতায় আনতে সরকার আগেই ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করেছে। এতে নিবন্ধন সনদ, ফিটনেস সনদ এবং ট্যাক্স টোকেন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত শুল্ক ও কর আদায়ের ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী, যানবাহনের মালিকদের প্রতি বছর ফিটনেস নবায়নের সময় অগ্রিম আয়কর দিতে হয়, যা পরে বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয় করা যায়। নতুন ব্যবস্থায় মোটরসাইকেল এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ সহায়ক হতে পারে, তবে বাস্তবায়ন সহজ হবে না। সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে কর আদায় তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বড় অংশ অনিবন্ধিত হওয়ায় পুরো খাতকে করের আওতায় আনতে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।