নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেছেন, “মাদক না ছাড়লে এলাকা ছাড়তে হবে। কেন্দুয়া উপজেলা এখন মাদকের ক্যান্টনমেন্টে পরিণত হয়েছে। এই মাদককে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে না পারলে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাবে—তখন আমাদের সকলকেই মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে হবে।”
শনিবার দুপুরে ফাইভ ব্রাদার্স সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে রোয়াইলবাড়ি বাজার থেকে পাইকুড়া বাজার পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে এক হাজার ফলজ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হিলালী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, মাদকের ভয়াবহতা রোধে তিনি মহান জাতীয় সংসদে নতুন আইনের বিল উত্থাপন করেছিলেন। সরকারি ও বিরোধী দলের সর্বসম্মত সমর্থনে সেই বিল পাস হয়েছে, যেখানে মাদকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ধার্য করা হয়েছে। মাদককে সমাজের সবচেয়ে বড় ব্যাধি উল্লেখ করে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এমপি হিলালী বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফাইভ ব্রাদার্স সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
ফাইভ ব্রাদার্স সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. মুখলেচুর রহমান ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা চৌধুরী, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ভূঞা মজনু, রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা আক্তার এবং সংগঠনের ডিরেক্টর মো. সিদ্দিকুর রহমান ভূঞা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউএনও সানজিদা চৌধুরী মাদক নির্মূলে সংসদ সদস্যের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “শুধু কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে আমরা সত্যই মাদক মুক্ত সমাজ চাই।” পাশাপাশি রাস্তার দু’পাশে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের জন্য আয়োজক সংগঠনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।