1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
জ্বালানি সংকটে স্থবির কলারোয়া: ইউরেকা পাম্পে দীর্ঘ সারি, সোনিয়া পাম্প বন্ধ খানজাহান আলী থানা সাংবাদিক ইউনিটির সভাপতির সহধর্মিনীর শাহাদাত বার্ষিকী দালাল চক্রের হাতে জিম্মি দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ; নির্বিকার প্রশাসন লালমোহনে ১০০ পিচ ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে লালমোহন থানার পুলিশ। সোনাতলায় বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের মত বিনিময়। জামালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী স্বামী গ্রেফতার ঈদগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের এমপি কাজলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ভোলার – লালমোহনে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত রাজপথের দুই যোদ্ধা এবার ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে: ফরিদপুর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক সাহেদুল, সদস্য সচিব সজল

রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, ময়মনসিংহ–ভৈরব রেলপথে সেবা বঞ্চিত লাখো মানুষ

মিয়া সুলেমান
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে
রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, সেবা বঞ্চিত লাখো মানুষ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে ময়মনসিংহ–ভৈরব রেলপথে বর্তমানে চলাচল করছে মাত্র দুটি ট্রেন— বিজয় এক্সপ্রেস ও নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস। এর মধ্যে বিজয় এক্সপ্রেস শুধু আঠারোবাড়ি রেলস্টেশনে যাত্রাবিরতি দিলেও মাঝপথের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামে না। ফলে ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, নান্দাইলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পথে যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস।
ট্রেন সংকটের পাশাপাশি স্টেশনগুলোতে তীব্র জনবল ঘাটতি থাকায় যাত্রী দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অব্যবস্থাপনার কারণে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো হলে স্টেশনগুলো তাদের হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং রাজস্ব আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
জনবলশূন্য ঐতিহ্যবাহী সোহাগী রেলস্টেশনটি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সোহাগী ইউনিয়নের সোহাগী বাজারে অবস্থিত। একসময় ছিল একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ব্যস্ত স্টেশন। যাত্রী ছাউনি, আবাসিক কোয়ার্টার, স্টেশন মাস্টার অফিস, সিগন্যাল ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব অবকাঠামোই ছিল সেখানে।
কিন্তু সময়ের ব্যবধানে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে স্টেশনটি কার্যত শূন্য জনবল নিয়ে চলছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রেলওয়ের বহু সরকারি সম্পদ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে গেইটম্যান দিয়েই কোনোভাবে স্টেশনের ন্যূনতম কার্যক্রম চালু রয়েছে, যা অপ্রতুল। স্টেশনে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, দেখভালের অভাবে সিগন্যাল রুমের তার চুরি হয়ে গেছে। ফলে সিগন্যালিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে এবং সোহাগী স্টেশনে আর ট্রেন ক্রসিং সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, আঠারোবাড়ি রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টারকে সোহাগী ও ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারেন না।
সোহাগী বাজার সবজি ও চাটাই ব্যবসার একটি বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক টাকার চাটাই রেলপথে ভৈরব, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হতো। কিন্তু স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ব্যবসায়ীরা রেল পরিবহন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে সড়কপথ ব্যবহার করায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, কমছে লাভ, বাড়ছে ভোগান্তি।
নান্দাইল রোড স্টেশনেও একই চিত্র। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইল রোড রেলস্টেশনটি চরম সংকটে ভুগছে। পার্শ্ববর্তী মুসল্লী রেলস্টেশন কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকায় এর অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নান্দাইল রোড স্টেশনে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র একটি লোকাল ট্রেন যাতায়াত করে।
একসময় নান্দাইল রোড ও মুসল্লী স্টেশনে দিনে ও রাতে আপ-ডাউন মিলিয়ে ১০টির বেশি ট্রেন থামত। নান্দাইল, তারাইল ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার হাজারো মানুষ স্বল্প খরচে ও নিরাপদ যাতায়াতে রেলপথ ব্যবহার করতেন। বর্তমানে শুধু চট্টগ্রাম মেইল ট্রেন (৩৭-আপ ও ৩৮-ডাউন) নির্দিষ্ট সময়ে নান্দাইল রোড স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়।
স্টেশনটিতে যাত্রীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিশ্রামাগার কিংবা নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যেই চলছে কার্যক্রম। আন্তঃনগর ট্রেন না থামায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। অনেককে একটি ট্রেনের জন্য সারাদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, ট্রেন সংখ্যা বাড়ানো ও জনবল সংকট নিরসনের দাবিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু এবং নতুন লোকাল ট্রেন সংযোজন করা হলে সাধারণ মানুষ আবারও স্বস্তিতে রেলসেবা গ্রহণ করতে পারবে, পাশাপাশি সরকারও বাড়তি রাজস্ব আয় নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, সম্প্রতি বর্তমান সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুসাইন খান চৌধুরী এমপি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বিষয়: অবঃ শামসুল ইসলাম উনারা দু’জনই এই অঞ্চলের বাসিন্দা। যদি তারা স্টেশনসমূহে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজসহ আরও কয়েকটি লোকাল ট্রেন চালু করার জন্য তারা পদক্ষেপ নেন তাহলে সাধারণ জনগণ ট্রেন যাতায়াতের সুবিধা ভোগ করতে পারবে।
ঐ কথার প্রেক্ষিতে শিক্ষক মো. সোলেমান মিয়া বলেন, ময়মনসিংহ-ভৈরব রেল রুটে আরো ট্রেন চালু করা হলে, সরকার যেমন লাভবান হবে তেমনি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক খাত বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে কর্মসংস্থানের পথ সুগম হবে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com