প্রমত্তা সুতারখালী নদী পেরিয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল একটি মায়াবী হরিণ। তবে এলাকাবাসীর সচেতনতা আর বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপে কোনো বিপদ ঘটার আগেই প্রাণিটি ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা আবাসস্থল। শুধু তাই নয়, এর আগের দিন শিকারির পেতে রাখা মরণফাঁদ থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে আরও একটি হরিণ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে সুন্দরবন থেকে একটি মায়াবী হরিণ সুতারখালী নদী সাঁতরে খুলনার কয়রা উপজেলার কালাবগী লোকালয়ে চলে আসে। বন্যপ্রাণিটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা বন বিভাগকে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মোঃ শরিফুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় হরিণটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সেটিকে হড্ডা টহল ফাঁড়ির পার্শ্ববর্তী গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়।
এর আগে বুধবার সকালেও সুন্দরবনের হড্ডা খাল এলাকায় টহল দেওয়ার সময় শিকারির পেতে রাখা ফাঁদে আটকা পড়া একটি হরিণ উদ্ধার করেন নলিয়ান স্টেশন কর্মকর্তা মোবারক হোসেন। হরিণটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালীন পাটাকাটা এলাকা থেকে হরিণ শিকারের ২০টি ‘সিটি ফাঁদ’ জব্দ করে বন রক্ষীরা। “খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হরিণটি উদ্ধার করি। সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় আমাদের এই তৎপরতা নিয়মিত পাহারার অংশ। আমরা হরিণটিকে সুস্থ অবস্থায় বনে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।” > — মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহকারী বন সংরক্ষক, খুলনা রেঞ্জ।
এসিএফ শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে উদ্ধার অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি রেঞ্জার মোবারক হোসেন, হড্ডা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ বিল্লাল হোসেন এবং স্থানীয় আঃ মান্নান ও রহিম সরদারসহ বন বিভাগের সদস্যরা। স্থানীয়দের এমন দায়িত্বশীল ভূমিকা ও বন বিভাগের দ্রুত সাড়া প্রদানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাছানুর রহমান জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।