সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে জাতি আজ গভীর শোক ও বেদনাবিধুর সময় অতিক্রম করছে।
এই শোকাবহ প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দলীয়ভাবে সাত দিনের শোক ঘোষণা করছে।
“এমন এক বিষণ্ন ও সংযমের সময়ে ইংরেজি নতুন বছর ২০২৬ আমাদের দ্বারপ্রান্তে এসেছে—যা এবছর আনন্দ বা উদযাপনের চেয়ে বেশি আমাদের মনকে ব্যথা ও শোকের মধ্যে রাখছে। অভিভাবক হারানোর বেদনায় পুরো জাতি আজ কষ্ট ও দুঃখে বিচলিত, তাই এ মুহূর্তে নববর্ষ পালন করার ইচ্ছা করছে না। নতুন বছর এই সময়ে নিজের মূল্যবোধ পুনর্বিবেচনা, সংযম বজায় রাখা এবং নতুন সংকল্প গ্রহণের বার্তা নিয়ে এসেছে।”
নির্যাতিত ও নিপীড়িত মজলুম জনতার পক্ষ থেকে আমরা মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, শুভানুধ্যায়ী ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর ইন্তেকাল নিঃসন্দেহে জাতীয় জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।
সাধারণত নতুন বছর মানুষকে আনন্দ, উৎসব ও নতুন আশার বার্তা দেয়। তবে এবারের ইংরেজি নববর্ষ এসেছে শোক ও সংযমের আবহে। এই বাস্তবতায় আমরা বিশ্বাস করি, নতুন বছর কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা বদলের উপলক্ষ নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, মূল্যবোধের পুনর্নবীকরণ এবং একটি মানবিক, সহনশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকার। নতুন করে করার সময় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের বস্তুনিষ্ঠ মত প্রকাশের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্ভব। বিশেষ করে নির্যাতিত ও নিপীড়িত মাজলুম জনতার অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো প্রয়োজন।
নতুন বছরে আমরা প্রত্যাশা করি—দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণ পেশাদারিত্ব, নৈতিকতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং সব ধরনের চাপ, ভয় ও বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে—এমন পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আমরা আশা করি।
এই শোকের সময়ে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে সবাইকে সংযম, সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে আমরা জাতিগতভাবে যে কোনো সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হব—এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।
নতুন বছর হোক হানাহানি ও বিভাজনের নয়, বরং শান্তি, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাবাহক।
পরিশেষে, ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ আগমন উপলক্ষে দেশবাসী, শুভানুধ্যায়ী এবং সকল সহকর্মীদের জানাই বিনম্র শুভেচ্ছা ও আন্তরিক শুভকামনা। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিকতা ও কল্যাণ—এই প্রত্যাশাই আমাদের।