আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যশোর-৩ (সদর) নির্বাচনী এলাকা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী মাঠে তাদের নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) যশোর জেলা শাখার পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সাথে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি আব্দুল কাদের বলেন, সরকার একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। যশোর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে তাঁর নারী কর্মীরা প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
“প্রশাসনে বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যায়নি। ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা চলছে।”
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের এই প্রার্থী প্রশাসনের প্রতি কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে পারেন, এমন একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
বিবৃতিতে তিনি নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে সত্য তুলে ধরার অনুরোধ জানান।
এসব অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয়–প্রশ্রয় দিচ্ছি না। বরং মাঠ থেকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষে সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে। এ ছাড়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে খেয়াল রাখার জন্য ভোটারদের টাকা দেওয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগও আছে।’
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ভৌগোলিক দিক, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাড়িসহ কয়েকটি দিক বিবেচনা করে গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র নির্ণয় করা হয়। এ ধরনের ভোটকেন্দ্র ৫০টি থেকে কমিয়ে আনা হয়েছে। নির্বাচনের আগে আরও কিছু কমে আসবে। আমরা আমাদের মেকানিজম দিয়ে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছি।’ সন্ত্রাসীদের প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো প্রার্থী আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।’
উল্লেখ্য, যশোর-৩ আসনে জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৯ জন।
ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের ব্যাপারে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আসনে ৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরাও এই সব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করি।’