1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় লস্কর ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি কলাপাড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি রোগীদের একমাত্র ভরসা বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ নেত্রকোনায় ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক কারবারি আটক ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জেলেদের বড়শিতে ধরা পড়ল কুমির মেলান্দহে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ পড়ে মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে গণপিটুনি মসজিদের ইমামের কাছে যুবদলের দুই নেতার লাখ টাকা চাঁদা দাবি আওয়ামী ভূত এখন অন্য একটি দলের কাঁধে চেপেছে: তারেক রহমান সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

সংস্কারের অভাবে ধান ক্ষেতের মাটিতে মিশে গেছে রাস্তা \ চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো নির্মান

মোঃ শাহজালাল
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৪
  • ৩১৯ বার পড়া হয়েছে

বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলর সদর ইউনিয়নের নাচনাপাড়া ও উত্তর নাচনাপাড়া গ্রামের কাঁচা সড়ক দুটি ধীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ধান ক্ষেতের মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে হাটু পরিমান কাদা হয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছে। এতে ভোগান্তিতে পরেছে ওই দুই গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দারা।
জানা গেছে, ২০১২ সালে আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের চানমিয়া প্যাদার বাড়ি থেকে জোলেখার বাড়ি পর্যন্ত ২ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক নির্মান করা হয়।

সড়কটি নির্মানের পর কোন সংস্কার না করায় ধীরে ধীরে সড়কের মাটি ধুয়ে পাশের ধানক্ষেতের সাথে মিশে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সড়কের উপর পানি জমে এক হাটু কাঁদা জমে যায়। কাঁদা পেরিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে মানুষের চলাচল দায় হয়ে পড়ে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন নাচনাপাড়া, উত্তর নাচনাপাড়া ও চিলা গ্রামের প্রায় ৪-৫শ’ লোক আমতলী সদরে যাওয়ার জন্য চলাচল করে। পাশেই রয়েছে চিলা ফাজিল মাদরাসা ও দক্ষিণ আমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এই সড়কের কাঁদা পেড়িয়ে মাদরাসা এবং স্কুলে আসা যাওয়া করে। অনেক সময় পানি এবং কাদায় পরে তাদের জামা কাপড় বই খাতা নষ্ট হয়ে যায়। কাদার পরিমান এতো বেশী যে, বৃদ্ধ নারী এবং পুরুষরা এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে ভয় পায়। তাই নিরুপায় হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদার টাকায় বাঁশ এবং সুপারি গাছ কিনে ওই সড়কের উপর সাঁকো নির্মান করে চলাচল করছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নাচনা পাড়া গ্রামের প্রায় ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের অভাবে মাটির সাথে মিশে গেছে। সড়কটি মাটির সমান হওয়ায় তার উপর এখন পানি আর কাঁদায় ভরপুর। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরী করে চলাচল করছে। স্থানীয় বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, বাবা মোগো রাস্তায় এতো কাঁদা মোর জম্মে আর দেহি নাই। কাদার লইগ্যা একটা বঁাঁশের হাক্কা দেছে হেও কাঁদায় পিছলাইয়া পইর‌্যা যাই। মোগো অইছে মরন দশা।নাচনাপাড়া গ্রামের নিজাম বিশ^াস বলেন, ১৬ বচ্চর ধইর‌্যা রাস্তাডা কোন মেরামত করে না। মোরা নিরুপায় অইয়া বাঁশ দিয়া হাক্কা দিছি। এইয়ার উপরদিয়া একটু আডাচলা করি। এই রাস্তাডা যাতে সরকার কইর‌্যা দেয় হেইডা মোরা দাবী জানাই।দক্ষিণ আমতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়াকুব হোসেন বলেন, বৃষ্টির সময় রাস্তায় কাদা থাকায় ঠিক সময়ে স্কুলে আসা যাওয়া করতে পারি না। অনেক সময় বই খাতা কাদা পানিতে পরে গিয়ে নষ্ট হয়ে যায় এতে আমাদের জামা কাপরও নষ্ট হয়। যে দিন এঅবস্থা হয় সেদিন আর স্কুলে যেতে পারি না। পথ থেকেই বাড়ি ফিরে আসতে হয়।

অপর দিকে এই সড়কের বিপরীতে উত্তর নাচনাপাড়া গ্রামের সড়কটিরও একই অবস্থা। রাজিব সিকদার ষ্টোর থেকে লতিফ কাজির বাড়ী পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার কাঁচা সড়ক ১০ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বর্ষা মৌসুমে কাঁদায় ভরে যায়। সড়কে এত পরিমান বেশী কাঁদা যে কোন মানুষ নেমে আর উঠতে পারবে না। তাই নিরুপায় হয়ে গ্রামবাসী তাদের চলাচলের জন্য নিজেদের টাকায় কাঠ বাঁশ কিনে সাঁকো নির্মান করে এখন চলাচলাচল করছে। ওই গ্রামের বাসিন্দা কালাম বলেন, বাবা মুই একদিন কাদায় নাইম্যা আর ওঠতে পারি নাই হকুল্ডি ধইর‌্যা মোরে উডাইছে। হেইয়ার পর মোরা গ্রামবাসী মিল্লা রাস্তার উপর বাশ দিয়া হাক্কা দিছি।নাচনাপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল মাতুব্বর বলেন, এই সড়কটি সংস্কারের জন্য উপজেলা এলজিইডির নিকট একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি শুকনো মৌসুমে কাজ শুরু হবে।
আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রস আলী বলেন, সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে যেনে সড়কটি সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com