একটি দুর্ঘটনা, শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন একটি হাত এবং একজন শ্রমজীবী মানুষের অন্ধকার ভবিষ্যৎ—কিন্তু সব আশঙ্কাকে পেছনে ফেলে সাতক্ষীরায় রচিত হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য রূপকথা। সরিষার কলের মেশিনে হাত হারিয়ে পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো এক ব্যক্তি ফিরে পেলেন তাঁর স্বাভাবিক জীবন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দক্ষ চিকিৎসকদের নিপুণ ছোঁয়ায় বিচ্ছিন্ন হাতটি আবার শরীরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ফিরেছে।
গত মঙ্গলবার হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের একদল চিকিৎসক প্রায় ৬ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর ও জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করেন।
মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াইয়ের ৬ ঘণ্টা
অসতর্কতাবশত সরিষার কলে কাজ করার সময় শরীর থেকে হাতটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রক্তমাখা হাত আর নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে যখন রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়, তখন সবার মনেই ছিল অনিশ্চয়তা। কিন্তু হাল ছাড়েননি চিকিৎসকরা। অর্থোপেডিক বিভাগের স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. বি. কে. মন্ডল এবং তাঁর অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম দ্রুত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এক দীর্ঘ ম্যারাথন অস্ত্রোপচারে নামেন। রক্তনালি ও স্নায়ু জোড়া দেওয়ার মতো অতি সূক্ষ্ম এই কাজগুলো তারা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেন।
সাতক্ষীরায় নতুন ইতিহাস
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে ইতিপূর্বে এত জটিল ও সূক্ষ্ম অপারেশন কখনো হয়নি। মফস্বলের একটি সরকারি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানের এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়াকে জেলার চিকিৎসাসেবায় ‘নতুন দিগন্তের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
ফিরেছে হাতের কার্যক্ষমতা, ফিরল মুখের হাসি
অপারেশন শেষে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগী এখন সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত। সবচেয়ে বড় বিস্ময় ও আনন্দের খবর হলো, জোড়া লাগানো হাতটি এখন নাড়াতে পারছেন রোগী। এটি কেবল একটি হাত জোড়া লাগার গল্প নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে চিকিৎসকদের আন্তরিকতার এক অনন্য বিজয়।
এক নজরে সেই অবিশ্বাস্য জয়:
- ঘটনা: সরিষার কলে কাটা পড়া হাত সফলভাবে পুনঃসংযোগ।
- নেতৃত্বে: ডা. বি. কে. মন্ডল ও তাঁর দক্ষ মেডিকেল টিম।
- অস্ত্রোপচারের সময়: বিরতিহীন ৬ ঘণ্টা।
- বর্তমান অবস্থা: রোগী সুস্থ ও হাত নাড়াতে সক্ষম।
হাসপাতালের ৩য় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী শেখ মো. আমিনুর রহমান এই আশাব্যঞ্জক সংবাদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই মহতী উদ্যোগ ও সাফল্য প্রমাণ করেছে যে, সরকারি চিকিৎসকদের একাগ্রতা থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা, এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক এবং সাধারণ মানুষ এভাবেই বাড়ির কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাক।