সাতক্ষীরা: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-০১ (তালা-কলারোয়া) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন হেভিওয়েট আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান। তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে কলারোয়া ও তালা উপজেলার নির্বাচনী সমীকরণে নতুন এক মাত্রা যোগ হয়েছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশাল কর্মী-সমর্থক বহর নিয়ে তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনয়নপত্র জমার খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।
দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনে দলীয় প্রার্থীর দাবিতে সোচ্চার ছিল স্থানীয় আওয়ামী লীগ। জোটগত রাজনীতির কারণে আসনটি বারবার শরিক দলের হাতে চলে যাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছিল। তৃণমূলের সেই দাবি ও মানুষের ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিজ্ঞ নেতা।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন—
“আমি জনগণের লোক, জনগণের দাবিতেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। তালা-কলারোয়ার মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা থেকে মুক্তি চায়। আমি বিশ্বাস করি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এই অঞ্চলের মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই বেছে নেবে।”
সাতক্ষীরা-০১ আসনে মুজিবের আগমনে নির্বাচনী লড়াই এখন ‘ত্রিমুখী’ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রধান দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী, অন্যদিকে জনপ্রিয় এই নেতার স্বতন্ত্র অবস্থান—সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে কৌতূহল তুঙ্গে। বিশেষ করে গ্রামের রাজুর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে শহরের মোড়গুলোতে এখন আলোচনার প্রধান বিষয় ‘মুজিবের মনোনয়নপত্র জমা’।
স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন, শেখ মুজিবুর রহমান এই অঞ্চলের পরিচিত মুখ এবং সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তার একটি শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
এখন দেখার বিষয়, সাতক্ষীরার এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি কে হাসেন। তবে আপাতত ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ মুজিবই সাতক্ষীরা-০১ আসনের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।