1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লায় গুলিবিদ্ধ সেই স্কুলছাত্রের চিকিৎসা সহায়তায় কুসিক প্রশাসক সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ চিকিৎসা বিল নিয়েছেন ৮২ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর করিডরে বাংলাদেশ যুক্ত হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পণ্য পৌঁছানো যাবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে ১১০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক হাবিবসহ ৫ পুলিশের মানবতাবিরোধী মামলার রায় রোববার, সরাসরি দেখাবে বিটিভি ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে চেয়ে পাগলা মসজিদের দানবক্সে চিঠি কাউখালীর দুই সরকারি বিদ্যালয়ে চরম শিক্ষক সংকট, গণিত শিক্ষক বদলিতে ক্ষোভ মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই শুধু প্রশাসনের নয়,এটি সামাজিক আন্দোলন-ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ রাবিতে প্রথম আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা শুরু

সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা খালিদ চিকিৎসা বিল নিয়েছেন ৮২ লাখ

Desk report
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আ ফ ম খালিদ হোসেন। আঠারো মাসে বিদেশে চিকিৎসার জন্য তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বিল নিয়েছেন ৮১ লাখ ৯১ হাজার ৪৮৮ টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আগামীর সময়।

হেফাজতে ইসলামের সাবেক নায়েবে আমির চিকিৎসা নিয়েছেন থাইল্যান্ডে। হৃদরোগ খালিদ হোসেনের। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট বলেছিল হার্টে যে সমস্যা, তার চিকিৎসা দেশে নেই।

বাংলাদেশে এসংক্রান্ত অপারেশনের ঝুঁকি রয়েছে। তারা থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন, এমনটাই দাবি খালিদ হোসেনের।

খালিদ হোসেন সরকারের অনুমোদন নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গত বছরের শেষদিকে এবং চলতি বছরের প্রথমদিকে তিনি থাইল্যান্ডে যান।

অপারেশন করান। প্রথমবার সঙ্গে ছিলেন চিকিৎসকও। পরের দফায় মেয়ে ও তার স্বামী। খালিদ হোসেন জানালেন, তার এখনো সমস্যা হয়। কিন্তু খরচ বেশি বলে যেতে পারছেন না।

প্রতিবছর লাখ লাখ বাংলাদেশি চিকিৎসা করাতে বিভিন্ন দেশে যান। মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আওতায় ভারতে যান ১৫ থেকে ১৭ লাখ বাংলাদেশি। যদিও এ পরিসংখ্যান ২০২৪ সালের আগের। তারপর পরিস্থিতি পাল্টালেও চিকিৎসার জন্য দেশটিতে যেতে চান রোগীরা। ভারতের পরই থাইল্যান্ড-সিঙ্গাপুর যান চিকিৎসা নিতে। সেই সংখ্যাটাও কম নয়।

ওপরের পরিসংখ্যান দিয়ে খালিদ হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, অতীতের সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে ব্যর্থ কি না। উত্তরে অকপট খালিদ হোসেন, ‘নিশ্চয়ই ব্যর্থতা রয়েছে। আমরা কেন এত বছরেও একটি ভালো হাসপাতাল করতে পারলাম না। আমরা মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের মতো হাসপাতাল করতে পারিনি। ব্যাংকে হাজার কোটি টাকা লুট হয়, পাচার হয়। দেশে চিকিৎসা থাকলে এত খরচ হতো না। চিকিৎসা বাবদ আমার নিজেরও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। দেশে চিকিৎসা থাকলে কেউ যাবে? এটা প্রমোদ ভ্রমণ নয়।’

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্যাবিনেটে আপনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। উপদেষ্টা পর্ষদের বৈঠকে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেননি কেন? এ প্রশ্নের উত্তরও প্রস্তুত ছিল, উপদেষ্টা বা মন্ত্রীরা ইচ্ছা করলেই অনেক কিছু করতে পারেন না। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। ইচ্ছা থাকলেই এখানে কিছু করা যায় না।

বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে ৭৯ লাখ ৩৮ হাজার ২২৯ টাকার বিল নিয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিদেশে চিকিৎসা খরচের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের মাত্র ১৮ মাসে বিদেশে চিকিৎসা খরচের ব্যয় হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ নিয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা।

তাদের মধ্যে সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নিয়েছেন ৮ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৪ টাকা; সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিয়েছেন ৭ লাখ ১৫ হাজার ৬৪৯ টাকা; সাবেক বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩৫ টাকা; সাবেক ভূমি উপদেষ্টা হাসান আরিফ নিয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২১৬ টাকা; সাবেক শিক্ষা উপদেষ্টা ড. এম আমিনুল ইসলাম নিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৯ টাকা এবং সাবেক খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার নিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩৪ টাকা।

এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার ব্যক্তি অসুস্থ হলে সরকার তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করে। জরুরি প্রয়োজন হলে বিদেশেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে এটি কোনো মাসিক বা বার্ষিক চিকিৎসা ভাতা নয়।

চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক উল্লেখ করেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘অসুস্থতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় বিল-ভাউচার দাখিলের শর্তে সরকার চিকিৎসা ব্যয় পরিশোধ করে। যদি এমন হয়ে থাকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। তাহলে যিনিই অর্থ গ্রহণ করে থাকুন না কেন, তা নিয়মবহির্ভূত। একই সঙ্গে যারা এ অর্থ অনুমোদন ও ছাড় করেছেন, তারাও অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না।’

‘বিষয়টির সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কী প্রক্রিয়ায় অর্থ ছাড় করা হয়েছে, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।’—যোগ করেন তিনি।

ইফতেখারুজ্জামানের ভাষ্য, ‘বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সরকার কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। চিকিৎসা ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত। বিল-ভাউচার ছাড়া কিভাবে অর্থ ছাড় করা হলো, তা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com