কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবৈধভাবে ঠেলে পাঠানো ১২ জন শিশু, নারী ও পুরুষ প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ, চারজন নারী এবং চারজন শিশু রয়েছেন। বর্তমানে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৪৮/৩ এস সীমান্ত পিলারের কাছে অবস্থান করছেন।
এদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী আসমা খাতুন এবং তাদের মেয়ে রাবেয়া খাতুন।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে বিএসএফ। তবে নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই শেষে পুশইন করা ১২ জনকে ফেরত নেবে কি না, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানিয়েছে তারা।
এর আগে শুক্রবার ভোরে দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করায় বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনতার বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনার পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি সদস্যরা। পাশাপাশি স্থানীয়রাও এগিয়ে এসেছেন সীমান্ত সুরক্ষায়। বিজিবির সঙ্গে পুশইন ঠেকাতে তারাও পাহারা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ৪৭ বিজেবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বিজিবি সদস্যরা। পুশইনকৃতদের ফেরত নেওয়ার বিষয়েও বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।