1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় লস্কর ফিলিং স্টেশনে অনিয়ম ও হামলার অভিযোগ, তদন্তের দাবি কলাপাড়া হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে মোমবাতি রোগীদের একমাত্র ভরসা বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী, শিগগিরই দায়িত্ব গ্রহণ নেত্রকোনায় ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন নারী মাদক কারবারি আটক ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জেলেদের বড়শিতে ধরা পড়ল কুমির মেলান্দহে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের উপর গাছ পড়ে মা ও ২ মেয়ের মৃত্যু ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ায় যুবককে গণপিটুনি মসজিদের ইমামের কাছে যুবদলের দুই নেতার লাখ টাকা চাঁদা দাবি আওয়ামী ভূত এখন অন্য একটি দলের কাঁধে চেপেছে: তারেক রহমান সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু

সুতার মুল্য বৃদ্ধি, নরসিংদীতে ৭০ ভাগ তাঁত ফেক্টরী বন্ধ

মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪
  • ১৬৬ বার পড়া হয়েছে
সুতার মুল্য বৃদ্ধির কারণে কাপড়ের জন্য বিখ্যাত নরসিংদী সদর উপজেলা ও প্রাচ্যের ম্যাচেষ্টার বলে ক্ষেত মাধবদী সহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা জেলার শত শত কাপড় উৎপাদনের টেক্সটাইল বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ইতিমধ্যে অনেক মিল মালিকরা ফেক্টরী বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। কাপড় উৎপাদন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল, শ্রমিকদের মুজুরী আরও অন্যান্য খরচ দিয়ে লাভ থাকতেছে না মিল মালিকদের। লোকসান দিতে দিতে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছেন অনেক মিল মালিকরা।
এর কারণ জানতে চাওয়া হলে মিল মালিকরা বলেন সুতার দাম দিনদিন বৃদ্ধি পেলেও বাড়ছে না কাপড়ের দাম। প্রতি গজে দুই থেকে তিন টাকা করে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে উৎপাদিত কাপড়। সুতার দাম অনুযায়ী কাপড়ের দাম পাচ্ছেন না মিল মালিকগণ। নরসিংদী সদর উপজেলার সাটির পাড়া, চৌয়ালা, মাধবদী থানার নুরালাপুর, বিবিরকান্দী, শিমুলেরকান্দি, দরীকান্দি, ছোট রামচন্দ্রী, আলগী, পাইকারচর, বালুসাইর, আটপাইকা, কোতোয়ালীরচ, কাশিপুর সহ এসব এলাকার বেশির ভাগ কারাখানাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আবার অনেক কারখানা প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এতে করে দিন দিন বেকার হয়ে পরছে কারখানার শতশত শ্রমিক কর্মচারী। এ বিষয় নিয়ে মাধবদী থানার ছোট রামচন্দ্রীর কাপড়ের কারখানার মালিক জামাল উদ্দীন, মজিবর সহ আরও কয়েকজন মিল মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, সুতার দাম দিন দিন বৃদ্ধি করা হলেও বাড়ছে না কাপড়ের দাম। প্রতি গজে দুই টাকা থেকে তিন টাকা করে লোকসানে বিক্রি করতে হচ্ছে উৎপাদিত কাপড়। তারা আরও বলেন, সুতার দাম অনুযায়ী আমরা কাপড়ের দাম পাচ্ছি না সেই জন্য কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা লোকসান দিয়ে আর কত চালাবো কারখানা। আমাদের পুজিই শেষ হয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আবেদন, তিনি যেন আমাদের এই ব্যবসায়ীদের দিকে একটু নজর দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাদের দিকে একটু নজর দেন তাহলে আমরা সকল ব্যবসায়ীরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। নতুবা রপ্তানিতেও পরতে পারে এর প্রভাব।এদিকে এফবিসিসিআই পরিচালক ও নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রসিডেন্ট আলী হোসেন শিশিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশের কতিপয় অসাধু সুতা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে সুতা মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দিন দিন সুতার দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছে। এর ফলে কাপড় উৎপাদনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ মুল্যে সুতা ক্রয় করে কাপড় উৎপাদন করে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। আফ্রিকাতে তুলার দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশের সুতা ব্যবসায়ীরা সুতার দাম বাড়িয়ে দেয়। অথচ বর্ধিত মুল্যে ক্রয়কৃত সুতা বাংলাদেশে আমদানি করে সুতা তৈরি করে বাজারজাত করতে কমপক্ষে তিনমাস সময় লাগে। এখানে আমাদের প্রস্তাবনা তাঁতশিল্প রক্ষায় সুতার মোড়কের গায়ে উৎপাদনের তারিখ ও সর্বোচ্চ খুচরা মুল্য লিখে দিতে হবে। তাহলে সিন্ডিকেট সুতা ব্যবসায়ীরা অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি করতে পারবেনা। বাজার স্থিতিশীল থাকবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁতশিল্প বেঁচে থাকবে। এছাড়া নরসিংদী, মাধবদী ও নারায়ণগঞ্জের টান বাজারের কতিপয় অসাধু সুতা ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বিভিন্ন স্পিনিং মিলের সুতা কিনে তাদের গোডাউনে মজুত করে, পরবর্তীতে সিন্ডিকেট করে চড়া দামে বিক্রি করে। ইতিমধ্যে নরসিংদী জেলার প্রায় ৭০ ভাগ তাঁত ফেক্টরী বন্ধ হয়ে গিয়েছে,সুতার অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি ও সুতার অবৈধ মজুমদারদের কারসাজির কারণে। নরসিংদী সহ সারা বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁতশিল্প রক্ষায় ও রপ্তানি বাজারের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সুতার অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধি রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট,শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় এবং শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে অবগত করা হয়েছে।
এ বিভাগের আরো সংবাদ

ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু করা হয়েছে ফুয়েল কার্ড ব্যবস্থা। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে তেল বিক্রিতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরলেও কমেনি সাধারণ চালকদের ভোগান্তি। বরং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তেলের জন্য। জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো প্রকার জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। নতুন এই নিয়ম বাস্তবায়নে রোববার (৫ এপ্রিল) জেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হয়।তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তেল পেতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা। অনেকেই ভোর ৪টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। নির্ধারিত সময় সকাল ৯টার পরিবর্তে কোথাও কোথাও ১০টার পর তেল সরবরাহ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এছাড়া, প্রথম দিনে ৫ লিটার করে তেল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক স্টেশনে ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয় বাইক চালকরা জানান, ‘ভোরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েও সকাল ১১টা পর্যন্ত তেল পাই না। কখন তেল পাবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’ এদিকে, ফুয়েল কার্ড ছাড়া অনেকেই তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। এতে একদিকে তেল বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরলেও অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফুয়েল কার্ড চালুর ফলে আগের মতো বিশৃঙ্খলা আর নেই। নিয়ম মেনে তেল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। রুপালী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল হক বলেন, “আগে তেল দিতে গিয়ে অনেক বিশৃঙ্খলা হতো। এখন কার্ড থাকার কারণে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” অন্যদিকে, ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ কর্মকর্তা মো. মুক্তারুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনোভাবেই ফুয়েল কার্ড ও বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তেল দেওয়া হচ্ছে না। তবে চালকদের দাবি, শুধুমাত্র নিয়ম করলেই হবে না—সময়মতো তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং লাইনের চাপ কমাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে প্রশাসনকে।

© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com