ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের নতুন ঘর নির্মাণে বাধা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
ফেনীর সোনাগাজীতে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে লন্ড্রি ব্যবসায়ীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, হামলা এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর পালগিরি গ্রামের হাকিম আলী মিঝি বাড়িতে।
ভুক্তভোগী আবু বক্কর ছিদ্দিক (৩৫) ওই এলাকার মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি ফেনী শহরের শাহীন একাডেমি রোডে একটি লন্ড্রি দোকান পরিচালনা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, বসতবাড়ির পুরাতন ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করলে তার আপন বড় ভাই অটোরিকশা চালক আবুল কাসেম এক শ্রেণির কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার ওপর নির্যাতন শুরু করেন।
স্থানীয় সমাজপতিদের উদ্যোগে দুই ভাইয়ের বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ ও পিলার স্থাপন করা হয়। কিন্তু সালিসি সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে আবুল কাসেম নির্মাণাধীন ঘরের পিলার ভাঙচুর ও আবু বক্করকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় আবু বক্কর ছিদ্দিক বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ও স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয়।
এমনকি সালিসি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাসেম কয়েকটি গাছও কেটে নেন।
কিছুদিন পর পুনরায় কাসেম তার ভাইকে হয়রানি শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবু বক্করের চলাচলের পথে বাঁশ ও লাকড়ি ফেলে বাধা সৃষ্টি করা হয়, ফলে নির্মাণ সামগ্রী আনতে তাকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় আবুল কাসেম ফেনীর অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন।
আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সোনাগাজী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন এবং দখল সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সোনাগাজী সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নির্দেশ দেন। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে মামলার পরও আবুল কাসেম ভয়ভীতি, হুমকি ও পুলিশ দিয়ে হয়রানি অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন আবু বক্কর।
পুরাতন ঘর ভেঙে নতুন ঘর নির্মাণ বন্ধ থাকায় তিনি পরিবার নিয়ে একটি অস্থায়ী ছাপরা ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘন কুয়াশা ও শীতের কারণে সেখানে বসবাস করাও দুরুহ হয়ে উঠেছে।
আবু বক্কর আরও জানান, নিজের ব্যবসার জমানো টাকা, স্ত্রীর স্বর্ণ বিক্রি এবং বিভিন্ন এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি নতুন ঘর নির্মাণ শুরু করেছিলেন।
কিন্তু ভাইয়ের অত্যাচারে সেই বিনিয়োগ হারিয়ে তিনি এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছেন।
স্থানীয় গ্রামবাসী জানান, আবুল কাসেম সামাজিক বিচার ও সালিসি সিদ্ধান্ত না মেনে অমানবিক আচরণ করছেন।
এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আবু বক্কর ছিদ্দিক ন্যায়বিচার পেতে প্রশাসন, থানা পুলিশ ও আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা দাবি করেছেন।