সাতক্ষীরা: পৌষের হাড়কাঁপানো শীত, চারদিকে ঘন কুয়াশা। যখন মানুষ উষ্ণতার খোঁজে ঘরের কোণে আশ্রয় নিচ্ছে, তখন সাতক্ষীরার রাজপথ সাক্ষী হলো এক অভূতপূর্ব ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। প্রিয় নেতা ও স্বজন ‘হাদি ভাই’ হত্যার বিচারের দাবিতে হাতে ব্যানার আর গায়ে কম্বল জড়িয়ে রাজপথে অবস্থান নিয়েছেন শত শত মানুষ।
তাদের দাবি একটাই—হাদি ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
( ২৯ ডিসেম্বর ) সোমবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরার প্রধান সড়কে জড়ো হতে থাকেন সর্বস্তরের মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাজপথ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তীব্র শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে অনেকে সাথে করে নিয়ে এসেছেন কম্বল। রাস্তার ওপর কম্বল বিছিয়ে বসে থাকা এই প্রতিবাদী মানুষের চোখে-মুখে ছিল প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠে ঝরছিল হাহাকার। উপস্থিত এক বৃদ্ধ আক্ষেপ করে বলেন, “হাদি ভাই আমাদের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকতেন। আজ তাকে অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এই শীতে কষ্ট করছি ঠিকই, কিন্তু কলিজার ভেতর যে শোকের আগুন জ্বলছে, তার কাছে এই শীত কিছুই না।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ প্রশাসনের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, হাদি ভাই হত্যার এতদিন পার হয়ে গেলেও মূল অপরাধীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুনিদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে সাতক্ষীরা থেকে আরও কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সাধারণত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেলেও, এবারের ‘কম্বল নিয়ে অবস্থান’ কর্মসূচিটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। পথচারী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—সবাই এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন।
শহরজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—কবে মিলবে হাদি ভাই হত্যার বিচার? প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই আন্দোলন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।