দালালের খপ্পরে পড়ে ভারতে পাচার সাজাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটে স্বদেশে প্রত্যাবর্ত
ভারতে পাচার হয়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ৬ বাংলাদেশি নারী। বুধবার (১৭ জুন ২০২৬) দুপুর ১২টার দিকে ভারতের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
হস্তান্তর প্রক্রিয়ার সময় ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বিজিবি, ইমিগ্রেশন পুলিশ এবং বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ভারত সরকারের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা যায়, হায়দ্রাবাদের এফআরআরও (FRRO) অফিস থেকে গত ২৯ মে ও ১২ জুন জারি করা ‘লিভ ইন্ডিয়া নোটিশ’ এবং ‘এক্সিট পারমিট’-এর আওতায় তাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ফেরত আসা নারীরা হলেন— চাঁদপুরের নুসরাত মণ্ডল ওরফে তাহমিনা আক্তার, যশোরের ফাতেমা জিন্নাত, ঢাকার ইতি শেখ ওরফে মিম আক্তার শান্তি, শরীয়তপুরের সাদিয়া আক্তার, টাঙ্গাইলের মোছা. রিফা খাতুন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরোহী মণ্ডল ওরফে শ্রুফা আক্তার।
ইমিগ্রেশন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাদের বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। বিভিন্ন সময়ে দালাল চক্রের প্ররোচনায় তারা অবৈধভাবে ভারতে পাচার হন। পরে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে হায়দ্রাবাদ কারাগারে প্রায় তিন বছর সাজাভোগ করেন। সাজা শেষে আদালতের নির্দেশে বিভিন্ন শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোর্তজা জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেন বলেন, আইনি কার্যক্রম শেষে ফেরত আসা নারীদের পুনর্বাসন ও পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির ভলান্টিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আপাতত নারীদের যশোরের একটি সুরক্ষা কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।