সিংড়ায় পাখি শিকার ও সাংবাদিক হেনস্তার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরে শিকারির এয়ারগান জব্দ করে পুলিশ। পরে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান সেই শিকারি।
সংবাদের গুরুত্বপূর্ণ লাইনঃ চলনবিল—প্রকৃতি, পাখি আর মানুষের সহাবস্থানের এক অনন্য নাম। অথচ সেই চলনবিলেই পরিযায়ী পাখি শিকার ও দায়িত্বশীল সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দ্রুত অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিলে পাখি শিকার ও সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত শিকারির ব্যবহৃত এয়ারগান জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আর কখনো পাখি শিকারে জড়িত হবেন না—এই মর্মে লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাখি শিকারের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সহযোগিতায় অভিযুক্ত শিকারি সাদ্দাত হোসেনকে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করা হয়। তিনি উপজেলার কুমগ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত অভিযুক্তের কাছ থেকে এয়ারগানটি জব্দ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধে আর জড়াবেন না—এ মর্মে মুচলেকা গ্রহণ করে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) চলনবিলের বনকুড়ি বিলে এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছিলেন সাদ্দাত হোসেন। এ সময় এক স্থানীয় সাংবাদিক তাকে পাখি শিকার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই সাংবাদিককে হেনস্তা করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রে আসে। এরপর রাজশাহী বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
এ সময় ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, পরিবেশ কর্মী শারফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, “শীত মৌসুমে চলনবিলে অসংখ্য পরিযায়ী পাখির আগমন ঘটে। কিন্তু কিছু অসাধু শিকারি নিষিদ্ধ এয়ারগান ও ফাঁদ ব্যবহার করে নির্বিচারে পাখি নিধন করছে। আমরা নিয়মিতভাবে এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছি।”
রাজশাহী বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, ভাইরাল ভিডিওটি দেখার পরপরই স্থানীয় কর্মীদের সহায়তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই চলনবিল এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এ বিষয়ে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, “চলনবিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন সর্বদা তৎপর। এয়ারগান জব্দ ও মুচলেকা নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি।”