উপকূলীয় জনপদ কয়রায় সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন দূষণ হ্রাসে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে উত্তরবেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক ‘শিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘রুপান্তর’-এর সহযোগিতায় এবং ‘ইয়ুথ ফর দি সুন্দরবন, কয়রা’ এই সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্তমানে পরিবেশের জন্য এক নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলায় মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জীববৈচিত্র্যের ওপর। প্রতিদিনের ব্যবহৃত এই অপচনশীল বর্জ্য উপকূলীয় বাস্তুসংস্থানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার সভাপতি নিরপদ মুন্ডা। সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সবুজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আ.ব.ম আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, “পলিথিন শুধু নর্দমা বন্ধ করে না, এটি আমাদের কৃষিজমি ও মৎস্য সম্পদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। এখনই বিকল্প চিন্তা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি মৃত জনপদ উপহার পাবে।”
বিকল্প ব্যবহার: বাজারে পলিথিনের পরিবর্তে কাপড়ের ব্যাগ ও পাটের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার বৃদ্ধি করা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার অভ্যাস গড়ে তোলা।
যুব সমাজের ভূমিকা: পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় তরুণদের ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার আহ্বান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন: উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াছাদ আলী, শিক্ষক মঞ্জুর ইলাহী বিদ্যুৎ, সুধাংশ কুমার সরকার, হুমায়ুন কবির বিশ্বাস এবং রুপান্তরের প্রজেক্ট অফিসার অনুপ রায়। এছাড়া ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের সদস্য ফরহাদ হোসেন, খাদিজা সুলতানা সাথী ও সঞ্জয় মন্ডলসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা আলোচনায় অংশ নেন।
বক্তারা সুন্দরবন উপকূলকে ‘প্লাস্টিকমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।