1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রূপগঞ্জে ১,১০৭ বোতল স্ক্যাপ সিরাপ উদ্ধার, মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মাননীয় মন্ত্রী, ভালো উত্তর দিতে পারলে আপনিও জান্নাতে যেতে পারবেন: স্পিকার গৃহস্থলী প্রদর্শনী পুকুরে উপকরণ বিতরণ করেছে শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎহীন ‘সলঙ্গা কেন্দ্রীয় গণপাঠাগার’ বেরোবির কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন পরিস্থিতি যেমনই হোক ইরান আত্মসমর্পণ করবে না: গালিবাফ জ্বালানি খাতে তুরস্কের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাল বাংলাদেশ পানি না নামা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চলাচল বন্ধ থাকবে এবার স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের

জামায়াত- চরমোনাই আসন সমজোতা, সম্পর্কে টানা পোড়নের আশঙ্কা

Md Necar Uddin
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৩ বার পড়া হয়েছে
আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামায়াত ও চরমোনাইয়ের মধ্যে আসন সমঝোতা কেবল একটি কৌশলগত প্রশ্ন নয়; এটি এখন সময়ের দাবি। সিদ্ধান্তহীনতা যেমন উভয় দলকে সংকটে ফেলতে পারে, তেমনি ঐক্য তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে। বাস্তবতা নির্মোহ— এখানে আবেগ নয়, হিসাবই শেষ কথা।
প্রথমত, যদি আসন সমঝোতায় এবার জামায়াত–চরমোনাই একসাথে না আসে, তবে উভয় দলই গভীর রাজনৈতিক সংকটে পড়বে। আলাদা পথে হাঁটার বিলাসিতা এই মুহূর্তে কারও থাকা উচিৎ নয়।
দ্বিতীয়ত, যদি তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাধারণ ভোটার মুখ ফিরিয়ে নেবে। কারণ মাঠের বাস্তবতায় একটি বিশ্বাস শক্তভাবে কাজ করছে—
“নো দাঁড়িপাল্লা, নো হাতপাখা; অনলি ইসলামের স্বার্থে ভোট দেব।”
এই বিশ্বাস ভাঙলে ক্ষতিটা হবে অপূরণীয়।
তৃতীয়ত, সমঝোতা না হলে এবং দুই দলের কেউ আলাদা হয়ে গেলে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিভক্ত ভোট মানেই প্রতিপক্ষের সহজ জয়— এটা নতুন করে বলার কিছু নেই।
চতুর্থত, সিদ্ধান্তহীনতার সুযোগে শত্রুপক্ষ টিটকারি করতে ভুলবে না— বরং তারা ইতোমধ্যেই শুরু করেছে। রাজনীতিতে দুর্বলতা প্রকাশ মানেই উপহাসের খোরাক হওয়া।
পঞ্চমত, যদি আসন সমঝোতা না হয়, তাহলে তুলনামূলকভাবে জামায়াতই বেশি বেকায়দায় পড়বে। কারণ তাদের ভেতরে প্রত্যাশা আছে— অন্তত ১৪০ আসনে বিজয়ের। এই উচ্চাশা পূরণ না হলে চাপটা তাদের ওপরই বেশি পড়বে।
ষষ্ঠত, এই জায়গায় চরমোনাই তুলনামূলকভাবে মানসিকভাবে নির্ভার। তাদের রাজনৈতিক দর্শন স্পষ্ট—
জয়–পরাজয় আমাদের জন্য খাস নয়; আমরা ইবাদতের উদ্দেশ্যে রাজনীতি করি। জয় হলে আলহামদুলিল্লাহ, হার হলেও আলহামদুলিল্লাহ। যেখানে হার– জিতই মুখ্য নয়, সেখানে লজ্জার প্রশ্নও আসে না। কিন্তু জামায়াতের প্রত্যাশার পাহাড় যদি ভেঙে পড়ে, সেই ভোগান্তি তাদেরকেই বহন করতে হবে।
সপ্তমত, এই মুহূর্তটি জামায়াত–চরমোনাইয়ের জন্য দারুণ এক সুযোগের সময়। তারা যদি আসন সমঝোতায় আসে, সরকার গঠন নাও করতে পারে— তবু রাজনীতিতে একটি শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারবে।
অষ্টমত, বিএনপি এখন একা। এই বাস্তবতায় জামায়াত–চরমোনাই ও এনসিপি চাইলে সুযোগ নিতে পারে। যদিও ব্যাটে–বলে মিলনের সম্ভাবনা কম, তবু আশাবাদ আছে— ভালো ফলাফলের।
নবমত, বিএনপির শরিক দলগুলোর আসনগুলোতে যদি জামায়াত–চরমোনাই ও এনসিপি একসাথে লড়াই করে, তবে বিএনপির শরিকদের পরাজয় দ্রুততর হবে। কারণ বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়া প্রার্থীদের বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ানো প্রায় নিশ্চিত— এটাই মাঠের রাজনীতি।
দশমত ও শেষ কথা, আসন সমঝোতার আগে প্রত্যেক দলকে নিজ নিজ অহংবোধ থেকে সরে আসতেই হবে। জামায়াতকে ছাড়তে হবে— আমরা বড়, আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, অর্থবল আছে, অতিরিক্ত দাবি আছে— এই মানসিকতা।
চরমোনাইকে ছাড়তে হবে— আমরাও কম নই, এত আসন না পেলে; যাব না—এই কঠোর অবস্থান।
রাজনীতি শেষ পর্যন্ত সমীকরণের খেলা। যে দল সময়ের বাস্তবতা বুঝে নমনীয় হতে পারে, ইতিহাস শেষ হাসিটা তার পক্ষেই রাখে। এখন দেখার বিষয়— জামায়াত ও চরমোনাই সেই বাস্তবতার পাঠ নেয় কি না!
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com