ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আর জনসমর্থনের জোয়ার থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অটল থেকে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী-ভুরুঙ্গামারী) আসনের রাজপথের লড়াকু সৈনিক, কেন্দ্রীয় ড্যাব-এর যুগ্ম মহাসচিব ডা. ইউনুছ আলী। মনোনয়ন না পেয়েও ক্ষোভ কিংবা অভিমানে মাঠ ছেড়ে না গিয়ে বরং দলের দুঃসময়ে আনুগত্যের যে পরাকাষ্ঠা তিনি দেখিয়েছেন, তা বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিরল উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম-১ আসনের প্রতিটি গ্রাম-গঞ্জ ও জনপদ চষে বেড়িয়েছেন ডা. ইউনুছ আলী। পেশায় চিকিৎসক হলেও সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা ও বিপুল জনসমর্থনের কারণে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। এমনকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন ও স্বাক্ষরও সংগ্রহ করেছিলেন তার প্রাণপ্রিয় কর্মী-সমর্থকরা।
মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার খবরে নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী এলাকার সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেক সমর্থক কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু ডা. ইউনুছ আলী ব্যক্তিগত ইমেজের চেয়ে দলের ঐক্যকে বড় করে দেখেছেন। দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তিনি মনোনয়ন ফরম জমা না দেওয়ার ঘোষণা দেন।
কর্মীদের শান্ত করতে ডা. ইউনুছ আলীর বার্তা
হতাশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন কণ্ঠে ডা. ইউনুছ আলী বলেন ”দল বড় না ব্যক্তি বড়—এই পরীক্ষায় আজ আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। আমি আপনাদের ভালোবাসা আর সমর্থনে ধন্য। কিন্তু মনে রাখবেন, আমরা একটি বৃহত্তর আদর্শের রাজনীতি করি। দলের চেয়ারপারসন ও হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকাই একজন প্রকৃত কর্মীর পরিচয়। পদের চেয়ে দলের অস্তিত্ব রক্ষা আজ বেশি জরুরি।”
তিনি কর্মীদের বুঝিয়ে বলেন যে, জিয়ার আদর্শের সৈনিকরা কখনো দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করে না। তার এই বলিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল বক্তব্যে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং হতাশ কর্মীরা পুনরায় উদ্দীপনা ফিরে পায়।
নির্বাচনী লড়াইয়ে না থেকেও ডা. ইউনুছ আলী এখন কুড়িগ্রামের মানুষের মুখে মুখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয়রা বলছেন, রাজনীতির মাঠে যেখানে পদের জন্য দলত্যাগের ঘটনা অহরহ ঘটছে, সেখানে ডা. ইউনুছ আলীর এই ত্যাগ ও ধৈর্য তাকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেল। কুড়িগ্রাম-১ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত মজবুত রাখতে তার এই ভূমিকা দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের প্রতি এমন দায়বদ্ধতা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে জেলাজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।