কলারোয়া, সাতক্ষীরা: নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতার পক্ষে ছদ্মবেশে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুক্ষ্ম ছক ভেস্তে গেল সাতক্ষীরার কলারোয়ায়। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে জনরোষের মুখে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন মাগফুর রহমান নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে কলারোয়া উপজেলা চত্বরে এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে।
বিশ্বস্ত সূত্রমতে, সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ও সৈনিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সরদার মুজিব ওরফে এস এম মুজিবুর রহমান বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ। তবে নিজেকে আড়ালে রেখে ‘স্বতন্ত্র’ তকমা ব্যবহার করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এক গোপন নীল নকশা তৈরি করেন তিনি। তার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ‘প্রক্সি’ বা ঢাল হিসেবে মাঠে নামেন উপজেলার ঝিকরা গ্রামের আওয়ামী লীগ কর্মী মাগফুর রহমান।
সোমবার বিকেলে অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে সরদার মুজিবের পক্ষে মনোনয়নপত্রটি জমা দেন মাগফুর। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার সাথে সাথেই উপস্থিত অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে কলারোয়া উপজেলা চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নির্বাচনী মাঠে ফেরার চেষ্টা করছেন। এতে জুলাই বিপ্লবের অংশীজনসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মাঝেও চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ সামাল দিতে কলারোয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আসার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার মুখে পড়েন মাগফুর। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকেই নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন বলেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগে মাগফুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে বর্তমানে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নির্বাচনী আইন ও বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
নিষিদ্ধ নেতার এমন ‘প্রক্সি’ দেওয়ার ঘটনায় কলারোয়া জুড়ে এখন বইছে আলোচনার ঝড়। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এই দুঃসাহস দেখানো হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরাও। এই ঘটনার পর যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।