ময়মনসিংহের ভালুকার ঐতিহ্যবাহী ‘ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’-এ ষষ্ঠ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির আসন সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তে দিনভর উত্তেজনার পর লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ৪ শতাধিক আসনের পরিবর্তে সীমিত আসনে ভর্তির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিভাবকরা দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ করেন।
আকস্মিক সিদ্ধান্তে গণঅসন্তোষ দেখাদেয়,স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর এই বিদ্যালয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেলেও এ বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন আসন সংখ্যা ১৫০-১৬০ জনে সীমাবদ্ধ করার নির্দেশনা দেন। শনিবার সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েকশ অভিভাবক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বৈঠক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুপুরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন ইউএনও ফিরোজ হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসেন এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল। এ সময় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা কর্মকর্তাদের ঘিরে ধরেন।
পরে তারা প্রধান শিক্ষক আল আমিনের কক্ষে আশ্রয় নিলে অভিভাবকরা কক্ষটি অবরুদ্ধ
করে রাখেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে লটারি আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়।
ভর্তি লটারির ফলাফল বৈঠক শেষে প্রশাসনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত লটারিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—এই তিন সেকশনে ৫৫ জন করে সর্বমোট ১৬৫ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া অপেক্ষমাণ (ওয়েটিং) তালিকায় রাখা হয়েছে আরও ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে।
বর্তমান পরিস্থিতি লটারি শেষ হলেও অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভর্তির সুযোগ না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।