কলারোয়া, সাতক্ষীরা: প্রতিদিনের মতোই চোখে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল সুরাইয়া খাতুন (১৮)। কিন্তু কে জানত, বেত্রাবতী স্কুলের সামনের সেই পথটিই হবে তার জীবনের শেষ সীমানা! সাতক্ষীরার কলারোয়ায় অবৈধ মাটিবাহী ট্রলি ও ইজিবাইকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন কলারোয়া সরকারি কলেজের মেধাবী এই শিক্ষার্থী।
সকালে বেত্রাবতী হাইস্কুলের গেটের সামনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুরাইয়া খাতুন কলারোয়ার ছলিমপুর গ্রামের ওজিয়ার গাজীর মেয়ে। তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে ইজিবাইকে করে কলেজে যাচ্ছিলেন সুরাইয়া। বেত্রাবতী স্কুলের সামনে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী মাটি বোঝাই বেপরোয়া ট্রলি ইজিবাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সুরাইয়া ছিটকে পড়লে ঘাতক ট্রলির চাকা তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই নিভে যায় একটি তাজা প্রাণ।
গতকাল (৩ জানুয়ারি) এই ঘটনার পর এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তায় অবৈধ ট্রলি ও মাটির গাড়ির বেপরোয়া চলাচল এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। আমরা কারো রিজিক বন্ধ করতে চাই না, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনের বিনিময়ে এই ব্যবসা চলতে পারে না। আজ সুরাইয়া প্রাণ হারিয়েছে, কাল হয়তো অন্য কারো সন্তান হারাবে।”
এদিকে, আজ রোববার ভোরে ফজরের নামাজের পর মরহুমা সুরাইয়া খাতুনের কবর জিয়ারত করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলারোয়া উপজেলার নেতৃবৃন্দ। কলারোয়া সরকারি কলেজ শাখা ও স্থানীয় শাখার দায়িত্বশীলরা মরহুমার পিতার পাশে দাঁড়িয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তারা সুরাইয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
একটি স্বপ্নিল প্রাণের এমন অকাল প্রয়াণে কলারোয়ার শিক্ষা অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের কালো ছায়া। সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এসব অবৈধ ও বেপরোয়া যানবাহন বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
একটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণ কেড়ে নেয় না, নিভিয়ে দেয় একটি পরিবারের আশার প্রদীপ। সুরাইয়ার এই চলে যাওয়া যেন আমাদের সড়ক ব্যবস্থাপনার ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন রেখে গেল।