০৪ জানুয়ারি ২০২৬ : ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট কমরেড নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি এই ঘটনাকে ‘মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের আন্তর্জাতিক দুর্বৃত্তপনা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের দখল নেওয়া, ল্যাটিন আমেরিকায় সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সামরিক হামলা ও হস্তক্ষেপ চালানো হয়েছে। দলটির মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সাম্রাজ্যবাদী চাপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাধীন নীতি গ্রহণ করছিল। এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থার সংকট মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া, সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা কিংবা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ দখলদারিত্বের পথে হাঁটছে। ভেনেজুয়েলার জনগণের ওপর কথিত সামরিক হামলা ও বোমাবর্ষণকে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য ও বর্বরোচিত হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটি ভেনেজুয়েলার জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে সংহতি প্রকাশ করে এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানায়।
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন সামরিক আগ্রাসন এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতারের ঘটনায় পৃথক বিবৃতিতে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রের ওপর এ ধরনের সামরিক আগ্রাসন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সব নীতি ও শালীনতার পরিপন্থী। ভেনেজুয়েলার জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করবে—এটাই হওয়া উচিত আন্তর্জাতিক সমাজের অবস্থান।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয়, বরং সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীন অস্তিত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”
কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তারা এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা নেয়।