পাবনা-০৩ আসনের নির্বাচনী সমীকরণ সামনে রেখে ফরিদপুর উপজেলায় রোববার সন্ধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এই সভায় আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বিএনপিতে যোগদান এবং বিএনপি নেতার বিতর্কিত বক্তব্যে এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক ফরিদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম বকুল। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে আসা নেতাদের শুধু আইনি সুরক্ষাই নয়, বরং দলেও বড় পদ দেওয়া হবে।বকুল বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে দলটিতে যোগদানকারীদের কোনোভাবে অবমূল্যায়ন করা হবে না; বরং তাদের সম্মানজনক পদে মূল্যায়ন করা হবে। যারা এখন বিএনপিতে যোগ দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করা হবে এবং থানায় আর কোনো হয়রানি করা হবে না।” তিনি আরও নির্দেশ দেন যে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সবাইকে এখন থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে জহুরুল ইসলাম বকুল আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, তারা যদি বিএনপিতে যোগদান করেন এবং ধানের শীষের প্রার্থীকে সহযোগিতা করেন, তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করা হবে না। তার এই মন্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— প্রশাসন আসলে কার নিয়ন্ত্রণে? বর্তমান সরকারের নাকি বিএনপির? একজন দলীয় নেতা কীভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে হয়রানি না করার নিশ্চয়তা দেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে গভীর সংশয় ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।উল্লেখ্য, জহুরুল ইসলাম বকুলের বিরুদ্ধে আগে থেকেই খাল-বিল দখল এবং হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের নানা অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পাবনা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন-এর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের ৮ জন নেতাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। দলত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতারা হলেন: উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মোল্লা, বিএলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল গফুর, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ লোকমান হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য দুলাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুদ রানা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রশিদ মেম্বার, ডেমরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ। নির্বাচনের আগমুহূর্তে এভাবে এক দল থেকে অন্য দলে যোগদান এবং মামলার ভয় বা পদের প্রলোভন দিয়ে রাজনৈতিক মাঠ দখলের এই কৌশলকে সাধারণ ভোটাররা নেতিবাচকভাবে দেখছেন। বিশেষ করে প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটানোর প্রকাশ্য ঘোষণা এলাকায় নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।