তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। তবে শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সন্ধ্যা নদীতে বসবাসরত ভাসমান জেলে সম্প্রদায়—স্থানীয়ভাবে যাদের ‘মানতা’ নামে পরিচিত।
সন্ধ্যা নদীর বুকে নোঙর করা ছোট ছোট নৌকায় বসবাসকারী এসব মানুষের জীবনের সবটুকুই নদীকেন্দ্রিক। জন্ম, বেড়ে ওঠা ও মৃত্যুও ঘটে নৌকাতেই। ডাঙায় তাদের কোনো স্থায়ী আবাসন নেই। বছরের পর বছর প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা। এবারের শীত সেই সংগ্রামকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলায় গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ১৪ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে অবস্থান করছে। নদীতীরবর্তী খোলা এলাকায় বাতাসের গতি বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে নৌকায় বসবাসরত মানতা জেলে পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।
শীতের তীব্রতায় অনেক জেলে মাছ শিকারে নদীতে নামতে পারছেন না। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে তাদের একমাত্র আয়ের পথ। ভুক্তভোগী জেলে রাণী, রহিম ও কুলসুম জানান, হিমেল বাতাস শরীরে বরফের মতো বিঁধে যায়। পাতলা কাপড় ও ত্রিপলের ভেতর দিয়ে ঠান্ডা ঢুকে পড়ায় রাতে ঘুমানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু ও বয়স্করা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। মানতা সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, প্রতিবছর সরকার ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও চলতি শীতে এখনো কোনো সহায়তা তাদের কাছে পৌঁছায়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা না হলে সন্ধ্যা নদীর ভাসমান মানতা জেলে সম্প্রদায়ের মানবিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।