1. admin@desh-bulletin.com : নিজস্ব প্রতিবেদক : দৈনিক প্রতিদিনের অপরাধ
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ধামইরহাটে যাত্রী ছাউনি থেকে মরদেহ উদ্ধার পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জেলা সমন্বয় কমিটির সভা দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে ছয় জন জেলে নিখোঁজ হওয়ায প্রতিমন্ত্রীর শোক প্রকাশ গৌরনদীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৮ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও আর্থিক অনুদান বিতরণ গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন: ইলিয়াস মিয়াকে ঘিরে নেতাকর্মীদের নতুন প্রত্যাশা বানারীপাড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদারের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার নাসিরুলের উদ্যোগে গয়হাটা ও চৌহালীর রাস্তা সংস্কার টানা বর্ষণে পানির নিচে চট্টগ্রাম, চসিক মেয়র বলছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মনিটরিংয়ের কারণে জলাবদ্ধতা হয়নি’ সাতকানিয়ায় শফিকুল ইসলাম রাহী দাখিল মাদ্রাসায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। সিরিয়ায় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রাঁর হোটেলের কাছে বোমা বিস্ফোরণ

ইসলামী দল গুলোর আসন সমঝোতা ;কার লাভ -কার লোকসান?

Md Necar Uddin
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
তিক্ত সত্য হচ্ছে— অন্যদের (১১ দলের) ভোট পেয়ে জামায়াত জিতে আসা সম্ভব। কিন্তু অন্যরা জামায়াতের ভোট পেয়ে জিতে আসা প্রায় অসম্ভব। এখন অন্যরা যদি জামায়াতকে ভোট দেয়, জামায়াত অন্যদের ভোট পেয়ে যতটা আসন জিতে আসা সম্ভব— ঠিক তার অর্ধেকও জিততে পারবে না অন্যরা, যদি জামায়াত তাদের ভোট না দেয়। এর বেশি নয়।
সেটা কীভাবে? ধরেন, জামায়াত ১৫০ আসনে নির্বাচন করলো। এই ১৫০ আসন মূলত জামায়াতের এ-গ্রেড, বি-গ্রেড ও সি-গ্রেড শক্তিশালী অবস্থান থেকে নেওয়া। অন্য আসনগুলোতে তারা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। কারণ, সব আসন যদি এ-গ্রেড হতো, তাহলে আসন সমঝোতায় যাওয়ার দরকারই পড়ত না। জামায়াত চরমোনাই পীরের সঙ্গে আসন সমঝোতায় যাচ্ছে মূলত নিজেদের ডি-গ্রেড বাস্তবতা জেনেই। বাকী ১৫০ আসন ১১ দলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে— যার যেখানে শক্ত অবস্থান, তাকে সেখানে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জামায়াত-চরমোনাই ছাড়া মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে বাকী ১০ দলের উপস্থিতি বললেই চলে না। যেটুকু আছে, অনেক জায়গায় উপজেলা কমিটিও ঠিকঠাক চলে না। ফলে “রিজার্ভ ভোট” দিয়ে অন্যদের আসন জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা নেই। যেটুকু শক্তি আছে, সেখানেই তারা নির্বাচন করছে—অন্য জায়গায় নয়।
এখন ধরেন—চরমোনাইকে ৫০টি আসন দেওয়া হলো এই ৫০টি আসনেই চরমোনাই কি শক্তিশালী? কতটা শক্তিশালী? বিএনপির চেয়েও বেশি? না। তাহলে কত? ৩% থেকে সর্বোচ্চ ২০%। তাহলে সেখানে জামায়াতের অবস্থান কী? সর্বোচ্চ ১০%— এর বেশি নয়। ২০% + ১০% = ৩০%। বাকী ১১ দলের ১% ভোটার আছে কি না, সেটাই সন্দেহ। মোট ভোট দাঁড়ালো ৩১%। সেখানে বিএনপি যদি ৩২% পায়— সরাসরি সাংসদ। অর্থাৎ চরমোনাই ফেল।
এবার উল্টো চিত্রটা দেখেন জামায়াতের ৫০–৬০% ভোটার আছে— এমন আসন হয়তো হাতেগোনা ১০টা। বাকী সব আসনে তাদের ভোট ৩০%-এর নিচে। কিন্তু সেখানে চরমোনাই অন্তত ৩%, আর বাকী দলগুলোর ১% ধরলেও মোট দাঁড়ায় ৩৪%। এখানে বিএনপির জেতা সহজ নয়—লড়াই ছাড়া উপায় নেই। এই লড়াইয়ে যাদের বাক্সে স্লিপ ভোট বেশি পড়বে, তারাই জয়ী হবে।
সুতরাং এই ধরনের আসনে জামায়াতের জেতার সম্ভাবনা ২০–৩০টা। ৩০ + ১০ = মোট ৪০টা আসন—জামায়াত পেতে পারে ১১ দলের ভোট নিয়ে। কিন্তু অন্যরা? ১–২টা পাওয়াও দুষ্কর। তাহলে হিসাব মিলছে? মিলবে না। ভোটের পর মিলিয়ে নিয়েন। এই আসন সমঝোতায় কার লাভ? এই আসন সমঝোতায় পুরোপুরি জামায়াতেরই লাভ—নিম্নকক্ষেও, উচ্চকক্ষেও।
নিম্নকক্ষে ৪০টা আসন পেলেও, দেশের মোট ভোটের হিসাবে যেহেতু তাদের আসন বেশি, ভোটও বেশি—সে হিসাবে উচ্চকক্ষেও তারা অন্যদের চেয়ে বেশি পাবে। অন্যদিকে জামায়াতের ক্যালকুলেশন অনুযায়ী চরমোনাইয়ের ভোট ৩%। আসন পুরোপুরি না দেওয়ায় সেটা নামতে পারে ১%+ এ। ফলে উচ্চকক্ষে তাদের অবস্থান শূন্য। নিম্নকক্ষে ১–২টা পাবে কি না, সেটাও সন্দেহজনক।
চরমোনাই বাদে বাকী দলগুলোর মধ্যে এনসিপি, এবি পার্টি, বিডিপি, জাগপাসহ অনেকগুলো কার্যত জামায়াতেরই ঘরানার দল। সেখান থেকেও তারা ২–৪টা আসন পাবে। ২ জমিয়ত, খেলাফত ও নিজামে ইসলাম পার্টিগুলোর উচ্চকক্ষে আসনের সম্ভাবনা আরও গুরুতর সংকটে।
বিকল্প চিন্তা কী? চরমোনাইয়ের উচিত এই মুহূর্তে এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। এতে একদিকে ক্ষতি থাকলেও, তিন দিকেই লাভ। ক্ষতি কী? ক্ষতি হবে—বেশি আসন না পাওয়া। কিন্তু আসন সমঝোতায় গেলেও তারা বেশি আসন পাবে না— এটা তো আগেই স্পষ্ট।
তিনটি লাভ হলো—
১. এতদিন যেভাবে জিরো থেকে ১.৪৭% ভোট কাস্ট করেছে, এবারের ভোটে ১% বাড়লেও সেটা লাভ।
২. এককভাবে নির্বাচন করে যদি ৫টি আসনও পায়—সেটা হবে নিজেদের কৃতকর্মের ফল।
৩. নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে অন্তত একটি দৃশ্যমান অবস্থান থাকবে। এমনকি ১টি আসনও না পেলেও, চরমোনাই গণবিপ্লবের পথেই এগোচ্ছে। কারণ তাদের মূল উদ্দেশ্য আসন জয় নয়—তাদের মূল উদ্দেশ্য গণ দাওয়াতের মাধ্যমে গণবিপ্লব। শর্টকাট পথে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা তাদের নেই। নেই বলেই তারা অতীতে বড় কোনো শক্তির সঙ্গে আসনভিত্তিক রাজনীতিতে যায়নি। ২০০৮ সালে জিরো থেকে ০.৯৪% ভোট, ২০১৪ সালে নির্বাচনে না গিয়ে,
২০১৮ সালে ১.৪৭% ভোট— এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে তারা সঠিক পথেই আছে। সঠিক পথ মানে—গণ দাওয়াতের মাধ্যমে গণবিপ্লবের পথ। হয়তো এই পথ দীর্ঘ। কিন্তু এই দীর্ঘ পথই স্বস্তির। কারণ স্থায়ী বিপ্লব ছাড়া অস্থায়ী বিপ্লব কখনো টেকসই হয় না। আর যদি তারা এই গণবিপ্লবের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে— তাহলে তাদের অবস্থানই হবে সবচেয়ে উন্নত।
এ বিভাগের আরো সংবাদ
© দেশ বুলেটিন 2023 All rights reserved
Theme Customized BY ITPolly.Com