গতকালই ঘটে যেতো বড়ো ঘটনা। ইসলাম পন্থীদের স্বপ্নের এই ঐক্য গতকালই যে ভেঙে যেতো। ইসলামী আন্দোলনের নায্য হিস্যায় অনড় অবস্থানের বিপরীতে জামায়াত সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে মূলত আইএবি কে বাদ দিয়ে বাকি শরীকদের সাথে নিয়ে আগাতে। খুব আশাবাদী হয়েই ধুমসে প্রচার চালিয়েছে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলন বলে। কিন্তু আমীরে মজলিস আল্লামা মামুনুল হক কে ফোন করতেই শুধু না’ করেননি। বরং বাকি শরীকদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন বলায় মগবাজারের নীচতলায় মোচড় শুরু হয়ে যায়। কারণ: আল্লামা মামুনুল হক আগেই অবগত হয়েছেন, এই সংবাদ সম্মেলন এককভাবে ডেকেছে জামায়াত।
ইসলামী আন্দোলন কে মাইনাস করার সুযোগ নেই। উল্টো জামায়াত কে মাইনাস করার অধিকার রাখেন ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু জামায়াত যে এই সংবাদ সম্মেলন দিয়ে প্লাস-মাইনাসের খেলা খেলতে চেয়েছে এটা আল্লামা মামুনুল হকের অজানা নয়। প্রশ্ন হলো, আল্লামা মামুনুল হক জামায়াত কে খেলতে দেয়নি কেন?! জ্বী, অনেক গুলো কারণ আছে। তবে কারণের মূল কারণ সম্পর্ক। আইএবি ও বিকেএমের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ভাবেই দৃশ্যিত। শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. ও চরমোনাইর প্রয়াত পীর সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক সবার জানা। শাইখুল হাদীস ও চরমোনাইর পীর পরিবারের সম্পর্ক খুবই গভীরের। এটা রক্তের সম্পর্ককেও হারিয়ে দেয়।
আল্লামা মামুনুল হক এখন একজন পরিণত আলেম রাজনীতিবিদ। দলীয় প্রধান ও একজন খ্যাতিমান শাইখুল হাদীস। বাবাদের সম্পর্ক জানা আছে, তাই নিজ ভাইদের মাইনাসের রাজনীতি কে মুখের উপর না’ করে দিলেন। সমঝোতা আখের অটুট থাকুক বা নাই থাকুক, তবে আল্লামা মামুনুল হক যে হৃদয়ের প্রশস্ততা দেখিয়েছেন, ভ্রাতৃত্বের বার্তা দেখিয়েছেন অবশ্যই তিনি প্রশংসার দাবি রাখেন। আইএবি ও জামায়াতের মধ্যে চলতে থাকা ফেসবুকীয় যুদ্ধের ডামাডোলে আল্লামা মামুনুল হকের ঐক্যপ্রেমীতা আড়ালেই থেকে গেলো। জামায়াতের হামিদুর রহমান আজাদ আল্লামা মামুনুল হকের জবাব শুনে খেই হারিয়ে প্রচার করেন আইএবির আমীর অনুরোধ করছে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করতে!